মানব শরীরের নিরব ঘাতক ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও কার্বাইড

Kabir
সাজ্জাদুল কবীর

সাজ্জাদুল কবীর : মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কেমিক্যাল আমদানি রোধ, খাদ্যদ্রব্যে কেমিক্যালের উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও বাজার নিয়মিত তদারকি সহ জনসচেতনতা সৃষ্টি পর্যাপ্ত না হওয়ায় অতি সহজেই মানুষের শরীরে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ঢুকে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরমালিন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও কারবাইড। এ কেমিক্যালগুলোকে মানব শরীরের জন্য একপ্রকার নিরব ঘাতক বলা যায়।

মানুষ ফরমালিন খাচ্ছে মাছ, সব্জি, ফল ও দুধের সংগে । কিসে নেই ফরমালিন? ফরমালিনের যথেচ্ছা ব্যাবহারে বর্তমানে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। নিরব ঘাতক নামধারী ক্ষতিকর এ কেমিক্যাল মানুষের শরীরে প্রবেশের কারনে পেটের পীড়া, হাঁচি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বদহজম, ডায়রিয়া, আলসার, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে। ধীরে ধীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ লিভার, কিডনি, হার্ট, ব্রেন সবকিছুকে ধ্বংস করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ফরমালিন প্রথমেই আঘাত করে মানুষের পাকস্থলীতে। পরে সেটা যায় অন্ত্রনালীতে। পাকস্থলী ও অন্ত্রনালী থেকে ভেজাল খাবার ও রাসায়নিকগুলো বিশেষায়িত হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়। ফলে রক্তে প্রবাহিত হয়ে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, বৃক্ক এবং অস্থিমজ্জা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। শ্বাসনালীতে ক্যান্সার হতে পারে। বি এস টি আই সূত্রে জানা যায়, শতকরা ৩০–৪০ ভাগ ফরমালডিহাইডের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন হিসেবে ধরা হয়। ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ফরমালডিহাইড চোখের রেটিনার কোষ ধ্বংস করে। ফলে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। মানবদেহে ফরমালডিহাইড ফরমিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের এসিডিটি বাড়ায় এবং শ্বাস প্রশ্বাস অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে।

দীর্ঘদিন খাদ্যদ্রব্য টাটকা রাখতে ক্রমেই বাড়ছে ফরমালিনের ব্যবহার। অসাধু ব্যবসায়ীরা এসব ব্যবহার করছে পচনশীল খাদ্য, মাছ, মাংস, দুধ, কলা, ফল ও সবজিতে। কিন্তু ফরমালিন মূলত আমদানি হয়ে থাকে টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন, জীববিজ্ঞান পরীক্ষাগারে কাঁচের জারে ডুবানো বিভিন্ন স্পেসিম্যান বা নমুনা (মৃত প্রানী) ও মৃত মানবদেহ সংরক্ষণে ব্যবহার করার জন্য।

কিছু মুনাফার লোভে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যাবসায়ী জনসাধারনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জনসাধারনের স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মেশানোর মত জঘন্য কর্মকান্ড যারা চালিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে প্রতিহত করা অতি জরুরী। সেই সাথে সাধারন ব্যাবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকে। আর একাজে ব্যাবসায়ী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

অপরদিকে জনসাধারনকে নিজের স্বার্থে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং সর্ব্বপরি সচেতন হতে হবে। সবচেয়ে বেশী দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের। তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার দাবী জানিয়েছেন সমাজ সচেতন মহল।