মাদক নির্মূলের লড়াইয়ে এক দিনের বেতন দিচ্ছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে এক দিনের বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় (এপ্রিল-জুন) সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।রবিবার পুলিশ সদরদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইজিপি বলেন, ‘মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার সম্পর্কে জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তাদেরকে মাদকের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’আইজিপির এই প্রস্তাব অনুযায়ী কত টাকা সরকারি তহবিলে জমা পড়বে, সে হিসাব অবশ্য এখনও করেনি পুলিশ। জানতে চাইলে বাহিনীটির সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা এই হিসাব এখনও করিনি, সবে তো সিদ্ধান্ত হলো, দেখা যাক।’ সারাদেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার বলেও জানান তিনি।মাদক বিক্রেতাদের আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, ‘যারা মাদক বিক্রি ছেড়ে দেবে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান অথবা তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে মাদকবিরোধী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ প্রধান।নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বিশেষ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত ও তদারক করার নির্দেশও দেন আইজিপি। তিনি জেলার পুলিশ সুপারদেরকে শিশু নির্যাতন মামলা ব্যক্তিগতভাবে তদারক করার নির্দেশ দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান।পুলিশের সেবা নিতে আসা জনগণের সাথে সদাচরণ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। বলেন, ‘তাদেরকে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানে তৎপর হতে হবে।’সড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে বাসে তল্লাশি আরও জোরদার করতেও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বাহিনীটির প্রধান। বিশেষ করে টোল প্লাজা এবং ফেরি ঘাটে বাসে তল্লাশি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাইওয়ে পুলিশ এবং জেলা পুলিশকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন আইজিপি। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ি চালক ও তার সহকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নিদের্শ দেন।আইজিপি জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় ও সুসম্পর্ক বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে।’কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘জনগণের সাথে পুলিশের সুসম্পর্ক তৈরি করতে হবে। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অপরাধ দমনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’