মহেশপুরে আদিবাসীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত পাওয়ার ট্রিলার পেলেন মঙ্গল সর্দ্দার

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : আদিবাসীদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে কেনা ৪টি পাওয়ার ট্রিলারের মধ্যে ২টি পেলেন তথাকথিত আদিবাসী নেতা ভারতীয় নাগরিক মঙ্গল সর্দ্দার। ভারতীয় নাগরিককে যাতে আদিবাসীদের বরাদ্দকৃত টাকা হতে কোন অনুদান না দেওয়া হয় সেই জন্য আদিবাসী সমাজকল্যাণ সমিতি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করলেও তা কোন গুরুত্ব বহন করেনি।
উল্লেখ্য, ভারতীয় নাগরিক মঙ্গল সর্দ্দার ইতিমধ্যে মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামে বসবাস করত। সে সময় এখানে তার জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান করা হয়। ভারতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও বাংলাদেশী পরিচয় পত্র বাতিল হয়নি। আদিবাসীদের একটি গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, সরকার হতে আদিবাসীদের জন্য ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই খবর পেয়ে মঙ্গল সর্দ্দার ভারত থেকে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে গোয়ালহুদা গ্রামে এসেছে। সংবাদপত্রে এ ধরনের খবর ছাপা হলে মঙ্গল সরদার একজন পত্রিকার সম্পাদকসহ দু’জন সাংবাদিকের নামে মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করার জন্য কোট থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মামলাটির তদন্তের আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম আদিবাসী সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি খগেন সরদারকে ২টি পাওয়ার ট্রিলার ও আদিবাসী বহুমুখী সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি ভারতীয় নাগরিক মঙ্গল সরদার ওরফে মোংলা’কে ২টি পাওয়ার ট্রিলার নিজে হস্তান্তর করেন। উপজেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয় হতে উন্নয়ন সহায়তা শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তিসহ ৪টি পাওয়ার ট্রিলার ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাওয়ার ট্রিলার ক্রয় কমিটির সদস্য উপজেলা সমবায় অফিসার ফরিদুল ইসলাম জানান, কবে কখন পাওয়ার ট্রিলার ক্রয় করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। এমনকি কোন কোন সমিতিকে পাওয়ার ট্রিলার দেওয়া হবে তাও আমার জানার বাইরে। তিনি আরও জানান, মহেশপুর আদিবাসী বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমবায় সমিতির নামে যে সমিতি ছিল তা ২০১৬ সালে তার নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। আদিবাসী বহুমুখী সমাজকল্যাণ সমিতি নামে কোন সংগঠন আমার দপ্তরে নথি ভুক্ত নেই। একই কথা বলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী জয়নূর রহমান। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন আদিবাসী বহুমুখি সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ভারতীয় নাগরিককে (ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বাগদা থানার রোনঘাট গ্রামের মঙ্গল সর্দ্দার ভারতীয় ভোটার সিরিয়াল নং-৯০৯) কোন বিধি বলে সরকারী পাওয়ার ট্রিলার প্রদান করা হলো তা সাধারণের বোধগম্য নহে। ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু তালহা জানান, আদিবাসীদের জন্য ৪টি পাওয়ার ট্রিলার ক্রয় করা হয়। কিন্তু ৪টি পাওয়ার ট্রিলার কাকে দেওয়া হবে তা আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মঙ্গল সরদারের বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে বৈঠক করতে চেয়েছেন।

Inline
Inline