মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারও

মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বারকেও ডাকা হয়েছে বঙ্গভবনে। তাকেও সরকারে পদে দেয়া হচ্ছে। তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়েই দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বেশ কয়েকজনকে ফোন করে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মোস্তফা জব্বার বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র।

মোস্তফা জব্বার বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস-বেসিসের সভাপতি জব্বার ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে সরকারের নানা প্রকল্পের সঙ্গেও ছিলেন। তিনি

ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সদস্যও। নানা সময় তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোস্তফা জব্বার। পাশাপাশি এই খাতে আর কী কী করা যায়, সে বিষয়েও নানা সময় সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

গত ৬ ডিসেম্বর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে মেলা ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অন্যতম বক্তা ছিলেন মোস্তফা জব্বার। এই বক্তব্যে তিনি তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে সরকারের চিন্তার সঙ্গে একমত পোষণ করে নানা দাবি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জিডিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তফা জব্বার
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জিডিটাল ওয়ার্ল্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোস্তফা জব্বার

ওই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারকে আরও বড় কোনো দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন।

মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়ার বিষয়ে জানতে ফোন করে অভিনন্দন জানানো হলে মোস্তফা জব্বার ধন্যবাদ জানান। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আপনাকে ফোন করা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জব্বার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই বলব না, আমার মুখ বন্ধ, আপনারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেনে নেন।’

মোস্তফা জব্বার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি। তাকে কম্পিউটারে বাংলা ভাষা যুক্ত করার পথপ্রদর্শক মনে করা হয়। তার প্রতিষ্ঠানের বিজয় বাংলা কিবোর্ড ১৯৮৮ সালে প্রকশিত হয় যা প্রথম বাংলা কিবোর্ড এবং ইউনিকোড আসার পূর্বপর্যন্ত বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।

আর যাদের ডাকা হয়েছে

মঙ্গলবার যাদেরকে শপথ গ্রহণের জন্য বঙ্গভবনে ডাকা হয়েছে তাদের মধ্যে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের শাহজাহান কামাল।

এদের মধ্যে জনাব চন্দ আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় রয়েছেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছায়েদুল হক গত ১৬ ডিসেম্বর মারা গেছেন। ফলে তার পদোন্নতি হচ্ছে।

বঙ্গভবনে ডাক পেয়েছেন রাজবাড়ী-১ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। সোমবার ফোন পেয়ে তিনি ঢাকার পথে রওয়ানা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের পর এখন পর্যন্ত সরকারে নতুন মুখ বা দপ্তর পরিবর্তন হয়েছে তিন দফা।

২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এইচ মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নজরুল ইসলামকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হয় নতুন পাঁচ মুখ। প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন একজন।

সেদিন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তিনি তার আগের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।

একই দিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (খাদ্য)।

এরপর মন্ত্রিসভায় আরও একটি রদবদল হয়। সেটি চমকের তৈরি করে দেশজুড়ে। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সৈয়দ আশরাফকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। একই দিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফ পান তার নতুন মন্ত্রণালয় জনপ্রশাসন।