মনের মাধুরী দিয়ে প্রতিমাকে সাজাতে ব্যাস্ত তালা মৃৎশিল্পীরা

এসএম বাচ্চু, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদোৎসব (দুর্গাপূজা)কে কেন্দ্র করে তালা উপজেলার ১৮২ মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরিতে। ষষ্ঠী মধ্য দিয়ে মা দুর্গার আর্বিভাব ঘটবে বাকি মাত্র ২৩-২৪দিন। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছে। শরৎ এ দুর্গোৎসবকে পরিপূর্ণভাবে সাজাতে তালায় দিনরাত মিলিয়ে মন্দিরগুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ কারণে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ জেলার প্রতিমা তৈরির কারিগররা। চলছে মন্ডপ প্রতিমা তৈরীর ধূম।

খুলনা থেকে আসা কারিগর (মৃৎশিল্পি) সুজয় পাল বলেন, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছে সে। বাপ দাদাদের কাছেই শেখেন কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রতিমার কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

কারিগর অজয় পাল বলেন, বছরের সব সময় কাজ থাকে না তাই অধিকাংশ সময় বেকার থাকতে হয়। কিন্তু এখন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। আর কয়েকদিন পর প্রতিমা রং করা হবে। তবে কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন।

পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বলেন, শাস্তিুপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি শেষের দিকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল খোলা হবে। যে কোন সহযোগিতায় এ টিম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কাজ করবে। এবার উপজেলার ধানদিয়া ১৭টি, নগরঘাটায় ৯টি, সরুলিয়ায় ১০টি, কুমিরা ১৩টি, খলিষখালী ২০টি, তেঁতুলিয়া ৮টি, তালা ১৯টি, ইসলামকাটি ২০টি, মাগুরা ১০টি, খলিলনগর ২০টি, খেশরা ১৪টি, জালালপুর ১৬টি। সর্বমোট ১২টি ইউনিয়নে ১৮২টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ চলছে।

শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মেহেদী রাসেল, ও পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি ভাগে নিরাপত্তা দিয়ে থাকব। এছাড়াও র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।