মনপুরায় শিশু গৃহকর্মীকে খুনতির ছ্যাকা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সুরমা (৯) নামের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার হয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে সে ভোলা সদর হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাঁতরাচ্ছে। আহত সুরমার বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে।

মনপুরা উত্তর সাকুচিয়া ভোকেশনাল স্কুল শিক্ষক সাইদুর রহমানের স্ত্রী মিনারা বেগম সুরমার গায়ে লোহার খুনতি দিয়ে ছ্যাকা দেয় ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন সুরমার মা আনোয়ারা বেগম।

এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সুরমার পরিবারের পক্ষ থেকে মনপুরা থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গুরমার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তজুমদ্দিন উপজেলার চাদঁপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেয়ামুল্যাহ গ্রামের মুনাফ আলী বাড়ির মৃত ফজলুল রহমানের মেয়ে সুরমা। তার বাবা ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে ৩ বছর আগে মারা যায়। তিনি জীবিত থাকাকালীন সময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আশেপাশের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক মাস পর আনোয়ারা বেগম অন্যত্র বিয়ে করেন। মা আনোয়ারা বেগমের বিয়ের পর গত ১০ মাস আগে মেয়ে সুরমাকে পড়ালেখা ও ভরণপোষণ করার আশ্বাসে পাশের বাড়ির হাজী দিলাওয়াত মাস্টার তার মনপুরার উপজেলায় মেয়ে মিনারা বেগম (মিনু) এর বাসায় কাজে দেন। মিনারা বেগমের বাসায় কাজ করার পর থেকেই সুরমার সাথে তার মা আনোয়ারা বেগমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) সকালে মা আনোয়ারা বেগম মেয়ে সুরমার মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন আসার খবর পেয়ে দিলাওয়াত হাজীর বাসায় যান। সেখানে গিয়ে মর্মান্তিক অবস্থায় মেয়ে সুরমাকে দেখতে পেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মা আনোয়ারা বেগম। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সুরমাকে প্রথমে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ও পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় সুরমার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। গরম লোহার খুনতি দিয়ে সুরমার মাথা, মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরে অসংখ্য দাগ রয়েছে যা কয়েক মাস আগের বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সুরমাকে জিজ্ঞাসা করলে সে ভারসাম্যহীন অবস্থায় জানায়, আমারে মিনু কাকি মারছে। আমারে গরম তালাসি দিয়া ছ্যাকা দিছে। আগেও পিডাই তো। আমার সারা শরীরে পিডাইছে..।

সুরমার মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মাইয়ারে হাজী সায়েবের হাতে দিছি। তিনি তার মাইয়ার বাসায় পাডাইছে। আমার মাইয়া এমন ছিলো না। ওর সারা গাও পিডাইছে। আমি এইডার বিচার চাই।

ভোলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তৈয়বুর রহমান জানান আমরা শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তার চিকিৎসা চলছে। তবে তার শরীরে আনেক ক্ষত দাগ দেখা গেছে। এ সকল দাগ আনেক দীর্ঘদিনের। এমনটা মনে হচ্ছে যে ওকে প্রায় এ ধরনের নির্যাতন করা হতো। এবং সেখানে ওষুধ দেয়া হতো না। যার ফলে ওর শরীরের ঘাগুলো এখন ওর যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক সাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী মিনারা বেগম পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন খান জানান, গৃহকর্মী সুরমাকে মারধরের ঘটনাটি আমরা শুনেছি এ ব্যাপারে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।