মতিয়ায় ভরসা আ.লীগে

শেরপুর সংবাদদাতা  : রাজনীতিতে অগ্নিকন্যা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মতিয়া চৌধুরী এবারও নালিতাবাড়ী-নকলা উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি থেকে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৯৯১ সাল থেকেই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে আসছেন। ২০০১ সালে দলীয় কোন্দলে একবার হেরে গেলেও বাকি প্রতিবারই জয় পেয়েছেন তিনি। আগামীতেও তার হাত ধরেই জয় দেখছে ক্ষমতাসীন দল।

মতিয়া চৌধুরী সারাদেশেই সৎ রাজনীতিকের বিজ্ঞাপন হয়ে আছেন বহু বছর ধরেই। সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত কৃষিমন্ত্রীকে কোনো কলুষ গ্রাস করতে পারেনি কখনো।

নকলা-নালিতাবাড়ীতে উন্নয়নের সিংহভাগও এসেছে মতিয়ার হাত ধরেই। গারো পাহাড় ঘেরা নালিতাবাড়ীতে পুরোপুরি পাল্টে গেছে আর্থ-সামাজিক দৃশ্যপট।

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে জয়ী হয়ে কৃষিমন্ত্রী হওয়ার পর নাকুগাঁওকে স্থলবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এ ছাড়া গত ১০ বছরে মধুটিলা ইকোপার্ক স্থাপন, ভোগাই ও চেল্লাখালীতে তিনটি রাবার ড্যাম স্থাপন, নালিতাবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, শহীদ আব্দুর রশিদ মহিলা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা, নাকুগাঁও ভোগাই ও বুরুঙ্গা সেতু স্থাপন, সীমান্ত মহাসড়ক তৈরি, নকলা থেকে নাকুগাঁও পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার মহাসড়ক তৈরিসহ বহু কাজ হয়েছে তিনি মন্ত্রী থাকাকালে।

এ ছাড়া ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া, সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচের ব্যবস্থাও হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এসব উন্নয়ন প্রকল্প তাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়তে অবদান রাখবে।

তবে দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে আওয়ামী লীগে ঐক্য নেই প্রায় ২০ বছর ধরে। বিশেষ করে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে আছে বিভেদ ও পরস্পরকে কোণঠাসা করার রাজনীতি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেড়েছে দূরত্ব ও হতাশা। আর এটি নিয়েই কিছুটা দুর্ভাবনা রয়েছে।

মতিয়ার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম উকিল এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবুর মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে।

এই বিভক্তিকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানের পদটি ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি। একই কারণে পৌর মেয়রের পদটিও ছিল বিএনপির দখলে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের বিভেদেও বলি হন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ চকন ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী। ২০০১ সালের নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ে। অল্প ভোটে মতিয়াকে হারিয়ে বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরী জিতে যান।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান মতিয়া। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রার্থী হলেও মতিয়াকে হারাতে পারেননি বাদশা।

এবার মতিয়া চৌধুরীর পাশাপাশি নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বদিউজ্জামান বাদশা। দেশের জনঐক্য পরিষদ গঠন করে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন মোকসেদুর রহমান লেবুও। তার সাথে আছে স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিক সংগঠন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম উকিল বিভেদ দূর করার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘দলের স্বার্থেই নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিত।’

নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক আওয়ামী লীগে ভেতরকার সব দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যের কথা অস্বীকার করে বলেন, যারা স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তারা আসলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছেন।

স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ এক হতে পারলে দলের জয় নিশ্চিত।’

বিএনপি থেকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিম চৌধুরী, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হায়দার আলী, নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রিপন এবং জয়েদুর রশীদ শ্যামল।

নালিতাবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে বিরোধ থাকলেও সেটি পদ-পদবীতেই সীমাবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে জেলা শাখার সহ-সভাপতি শওকত সাঈদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তালুকদার রোজী সিদ্দিকীও প্রার্থী হতে চান। তবে শেষ পর্যন্ত দলটি মতিয়াকে সমর্থন দিতে পারে।