ভোলায় সরিষা চাষে বাম্পার ফলন

স্বল্প সময়ে, কম খরচে বেশি লাভের আশায় ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কৃষকরা আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল সরিষা চাষ করেছেন। সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ফসলের মাঠগুলো। দেখলে মনে হয় প্রকৃতি যেন হলুদ সাজে সাজছে। প্রতিটি মাঠে সরিষার আবাদ হয়েছে চোখে পড়ার মতো।

ডিসেম্বর মাসের হঠাৎ বৃষ্টি কৃষকদেরকে সাময়িক বাধাগ্রস্ত করলেও এবার আগাম জাতের সরিষার আবাদ করেছে এখানকার কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে এমনটাই আশা করছেন চাষিরা। সরিষার ঘরে উঠার সাথে সাথে একই জমিতে আবার বোরো আবাদ করেন চাষিরা। প্রকৃতির দেওয়া এই সুবর্ণ সুযোগ এখন কৃষকরা লুপে নিতে বেশ ব্যস্ত।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এখানে ৫১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৮৫ মেট্রিকটন। উচ্চফলনশীল বারি সরিষা- ১৪ ও ১৫, বিনা সরিষা -৪ এবং স্থানীয় টরি-৭, জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। কৃষি অফিসার জানান, বিন সরিষার-৪ ভোলার জলবায়ু উপযোগী এবং ছত্রাক জনিত অলটারনেরিয়া রোগ সহনশীল। এছাড়া হেক্টর প্রতি উৎপাদন ১.২ থেকে ১.৪ মেট্রিকটন। এ জন্য বোরহানউদ্দিনের চাষীগন বিনা সরিষা-৪ চাষে বেশি আগ্রহী।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গংগাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চাষি আমির হোসেনের সরিষা একটি ক্ষেত পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, অবারিত সবুজের সমারোহ। তিনি জানান, তিন বিঘা জমিতে উন্নত জাতের বিনা-৪ সরিষার আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফলন ও ভাল হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যে ফসল ঘরে উঠবে। এখন ভাল দাম পেলেই হয়। প্রথম দিকে সরিষার দাম ভাল পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে তেমন আর দাম পাওয়া যায় না। রাইখা দিয়ে, পরে বেচতে পারলে ভাল দাম পাওয়া যেত।’ কিন্তু আমির হোসেনের মতো ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে ফসল ধরে রাখা সম্ভব হয় না বলে তিনি জানান। ওই ক্ষেতে শাক তোলা অবস্থায় কথা হয় আমেনা বেগমের (৪৩) সাথে। তিনি বলেন, অনেক ম্যাইয়া এবং পোলারা ক্ষেতে আইসয়া ফটো তোলে। চর লতিফ এলাকার কৃষক অহিদ সর্দার, শামীম, ফখরুল বলেন, ডিসেম্বর মাসের হঠাৎ বৃষ্টির কারণে আমন ঘরে তুলতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকরা। এছাড়াও সরিষা উৎপাদনে কম সার, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানির প্রয়োজন হয় না। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে। আবার ওই জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। প্রতি হেক্টরে সরিষার পরিমাণ ১২০০ থেকে ১৪০০ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ওমর ফারুক বলেন, সরিষা একটি আগাম ফসল। ৭৫থেকে ৮৫দিনের মধ্যে ফসল পাওয়া যায়। এরপর বোরো আবাদ করা যায়। এ জন্য কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী। এবার সরিষার আবাদ একটু দেরীতে হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Inline
Inline