ভোলায় সবজির বাম্পার ফলন, প্রায় ৭৭ হাজার মে. টন বেশি উৎপাদন

ভোলা, ১২ জুলাই, ২০১৮ : জেলায় চলতি গ্রীস্মকালীন মৌসুমে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ৯৯ হাজার মে:টন শাক-সবজি উৎপাদনের টার্গেটের মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭১০ মে:টন। যা প্রায় ৭৭ হাজার মে:টন বেশি সবজি। এ বছর সবজির দাম ভালো থাকায় ও অধিক ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত বছর সবজি আবাদ হয়েছিল ৪১’শ ৫০ হেক্টর জমিতে। এ বছর গতবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঢেড়শ আবাদ হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমিতে, করলা ৪৮৫ হেক্টর, শসা ১৪২৫, বরবটি ৪৫০, ঝিংগা ৩৬০, চিচিংগা ৮০০, চাল কুমরা ৩৪০, মিষ্টি কুমড়া ৩৪০, ডাটা ৩০০, কাকরোল ৫০, পুইশাক ৫০০, কলমি শাক ৫৬০, বেগুন ২৫০, পানি কচু ৭৫০ ও লতি কচু ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তারা কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ সেবা, আবাহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও কৃষকদের নিরলস পরিশ্রমে সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বলেন, সাধারণত গ্রীস্মকালীন সময়ের সবজি মার্চের মাঝামাঝি থেকে আবাদ কার্যক্রম শুরু হয়ে চলে জুন মাস পর্যন্ত। কৃষকদের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’র ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলায় ৫০টি। এছাড়া অনেক কৃষক নিজ উদ্যোগেও এই ফাঁদ ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন এখানে সবজির উৎপাদন বাড়ছে।
সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া এলাকার কৃষক নাগর আলী ও আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা ২ একর জমিতে ঢেরশ, করলা, শসা ও পুঁই শাকের চাষ করেছেন। প্রায় ৫ থেকে ৬ দফা মাঠ থেকে সবজি বিক্রি করেছেন। এবছর জেলায় প্রচুর সবজি হওয়ায় তারা জেলার বাইরে সবজি বিক্রি করে আর্থিক ভাবে ভালো লাভবান হয়েছেন।
ধনীয় ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার কৃষক ইছমত কাদের জানান, এবার রমজানে সবজির দাম ভালো ছিলো। বিশেষ করে শসা, কুমড়া, বরবটি ও বেগুনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বিগত দিনের লোকসান পুষিয়ে তিনি লাভবান হয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার সাহা বলেন, মূলত সরকারের বিভিন্ন নিত্য নতুন উদ্যেগের ফলে জেলায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান সময়ে সারের কোন সমস্যা নেই। রোগ-বালাই ও পোকা-মাকর দমনে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সচেষ্ট রয়েছে। এছাড়া সবজির বাজার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি চাষে এ জেলায় আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, জেলার সবচে বেশি সবজি উৎপাদন হয়েছে চরফ্যাসন উপজেলায়। রাজধানীর বাজারের বড় একটি সবজির অংশ ভোলা থেকে যায়। একইসাথে বরিশাল হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় এখান থেকে সবজি রপ্তানি করা হয় বলে জানান তিনি।