ভোলায় দিনমজুর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের সনদের দাবীতে পথে পথে ঘুরছে

ভোলা প্রতিনিধি: ১৯৭১ সালে মাতৃভূমি বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জীবন বাজী রেখে যুদ্ধ করেছিল ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া ৬নং ওয়ার্ডের মৃত সেকান্দার ব্যাপারির ছেলে আবদুল মানিক (৭০)। ৭১ এর মুুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার সুবেদার খায়ের মোল্লার নেতৃত্বে ভোলার আলীনগরের মোকলেছ, মেদুয়ার কাশেম পুলিশ, পিরোজপুরের আলকাছ, ফনি, কাঞ্চন, দিলিপসহ অন্যান্ন সহকর্মীদের সাথে এ যুদ্ধে অংশগ্রহন করে। মুক্তি যুদ্ধের ৪৭বছর পার হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তার ভাগ্যে মেলিনি যুদ্ধের সনদ ও সরকারি কোন সুবিধা। যুদ্ধের পর স্ত্রী/সন্তান নিয়ে ৫/৬জনের সংসার চালাতে ব্যার্থ হয়ে সে ভোলা ছেড়ে পাড়িদেয় চট্টগ্রাম। প্রায় ৪০বছর যাবৎ সেখানে সে সমিলে কাজ করে সংসার চালত। ৭০বছর বয়সের আবদুল মানিক শরীরে শক্তি হাড়িয়ে দিন মজুরি করতে না পেরে ফের চলে আসে মাতৃভূমি ভোলাতে। এখন সে শরীরের শক্তির অভাবে না পারছে কোন কাজ কর্ম করতে আর টাকার অভাবে না পারছে কোন ব্যবসা বানিজ্য করতে। সব মিলিয়ে বর্তমানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে মুক্তি যোদ্ধা আবদুল মানিক। এমতাবস্থায় তারা মাথায় ঢুকে কি ভাবে সনদে না লেখানো যায়। সে থেকে সে একটি সনদের জন্য প্রতিদিন ভোলা মুক্তিযোদ্ধা আফিসসহ বিভিন্ন অফিসের বড়-বড় কর্তাদের হাতে পায়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করছে একটি সনদের জন্য। বর্তমানে আবদুল মানিক একটি মারাক্তক রোগে ভূগছে। টাকার অভাবে না পারছে ঔষধ কিনতে না পারছে সংসার চালাতে। আমরা জানি বর্তমানে দেশে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। যারা যুদ্ধে অংশগ্রহন না করেও নগদ টাকা ও তদবীরের বিনিময়ে মুক্তি যুদ্ধের সনদ পেয়ে সরকারি সকল সুবিধা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ হতভাগ্য আবদুল মানিককি কোন দিন দেখে যেতে পারবে তার মুক্তির সদন, না কি তার আগেই পারি জমাবে ৭০ বছরের আবদুল মানিক। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার জান্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতি জোড় অনুরোধ জানাচ্ছে দিনমজুর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মানিকের অসহায় পরিবার।