ভোট দিচ্ছে তিন নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল আটটায় এই তিন মহানগরীর ভোট কেন্দ্রগুলোয় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত।

সকাল আটটায় ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই তিন নগরীর অনেক কেন্দ্রের সামনে ভিড় জমতে থাকে ভোটারদের। নারী-পুরুষরা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন ভোটকেন্দ্র খোলার। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এই তিন সিটির নির্বাচনে চোখ ১৬ কোটি মানুষের। শুধু দেশের মানুষের চোখই শুধু নয়; দেশি-বিদেশি তথা আন্তর্জাতিক মহলেরও হাজারো চোখ এই নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হবে সেটা দেখার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন জাতিকে কেমন নির্বাচন উপহার দেয় সেটাই দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে মানুষ।

নির্বাচনকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে তিন সিটি এলাকায়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের রেওয়াজ অনুযায়ী ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনে ভোটাররা যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এজন্য কমিশন সব কিছু করবে উল্লেখ করে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন তা নিশ্চিত করা হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের যেকোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি জানান।

ইসি সচিব জানান, গাজীপুরের মতো এই তিন সিটিতেও ভোটগ্রহণ পরিস্থিতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে দুই ঘণ্টা পরপর প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্য কমিশন সচিবালয়কে জানাবেন। কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট বা সিল মারার ঘটনা ঘটলে বা তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে কমিশন। ভোট কেন্দ্রে কোনো অঘটন বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মকর্তারা এসএমএসের মাধ্যমে কমিশনকে জানাবেন। এ ক্ষেত্রে কমিশন ঢাকায় বসে এসব এসএমএসের তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

হেলালুদ্দীন জানান, ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি, ভোটার, প্রার্থীকর্মী-সমর্থকদের গতিবিধি এবং সর্বোপরি নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনসহ সব কিছু সাধারণ পোশাকে ঘুরে ঘুরে পর্যবেক্ষণ করবেন ইসির নীরব পর্যবেক্ষকরা। প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে ইসির নিজস্ব পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখলে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনে তারা কমিশনকেও ঘটনার তথ্য জানাবে।

এ ছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের দুদিন আগে থেকে তিন সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে ১৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরা নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। আরো চার প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আচরণবিধি দেখভাল করতে নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে হেলালুদ্দীন বলেন, ১৪ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ২৪ দিন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিন সিটিতে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন। ১০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট এই ২৩ দিন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিন সিটিতে আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। এ ছাড়া নির্বাচনের দুই দিন আগে থেকে পরের দিন পর্যন্ত আচরণবিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি সিটিতে ২০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আজ থেকে পরবর্তী চারদিন রাজশাহী ও বরিশালে ১০ জন করে এবং সিলেটে ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনে দুই লাখ ৪২ হাজার ৬৬৬ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

সিলেট সিটি করপোরেশনে তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন: আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (নৌকা প্রতীক), বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হাবিবুর রহমান (কাঁঠাল), ইসলামী আন্দোলনের সফিকুল ইসলাম (হাতপাখা)ও স্বতন্ত্র মুরাদ মোর্শেদ (হাতী)।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই নগরে মেয়র প্রার্থী সাত জন। এরা হলেন: আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা), বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী (বাস), স্বতন্ত্র হিসেবে জামায়াতের এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি) ইসলামী আন্দোলনের মোয়াজ্জেম হোসেন (হাতপাখা), সিপিবি-বাসদের আবু জাফর (মই) এবং স্বতন্ত্র এহসানুল হক তাহের (হরিণ)।

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন: নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, ধানের শীষে বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস, হাতপাখায় ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান মাহাবুব, মই প্রতীকে বাংলাদেষের সমাজতান্ত্রিক দলের মনীষা চক্রবর্তী, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির আবুল কালাম আজাদ-কাস্তে প্রতিক এবং হরিণ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বশির আহমেদ ঝুনু।