ভোটারবিহীন সরকারকে শিশুরাও বিশ্বাস করে না: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমানকে আন্দোলনকে সরকার শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ‘রাজধানীর মোড়ে মোড়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনকে মনিটরিংয়ের নামে দাঁড় করিয়ে রাখা হবে বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। আওয়ামী লীগ এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে জনগণ ও অভিভাবকরা তাদের ক্ষমা করবে না, এর পরিণাম শুভ হবে না।’

‘ভোটারবিহীন সরকারকে শুধু জনগণই নয়, শিশু থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে না।’

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না দাবি করে রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সড়কে নিহত হচ্ছে ২০ জন। গত সাড়ে তিন বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছে ২৫ হাজার মানুষ। আহত হয়েছে ৬২ হাজার মানুষ। সড়কে দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিলের জন্য দায়ী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং সরকারের অনাচারমূলক নীতি।’

‘বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার নিরাপদের সড়কের জন্য কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। আপনারা নিশ্চয় ভুলে যাননি নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের ঘোষণা, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের জন্য বিভিন্ন সংগঠন যখন আন্দোলন করছিলেন তিনি তখন আন্দোলনকারীদের ওপর লেলিয়ে দিয়েছিলেন তার পোষা শ্রমিকদের। তখন তিনি বলেছিলেন রাস্তায় গরু ছাগল চিনতে পারলেই তাকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। সরকারও তার দাবি মেনে নিয়ে শাজাহান খানের বাহিনীকে উৎসাহ দিয়েছিল। তাই গরু ছাগল বাঁচাতে গিয়ে আজ শিশু কিশোরসহ সব বয়সী মানুষদের বাসের চাকার নিচে ঠেলে দিয়েছেন শাহজাহান খানরা, থামেনি সড়কে মৃত্যুর মিছিল।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গতকালও দেখছেন কীভাবে মগবাজারে বাস পিষে মারল এক যুবককে, টাঙ্গাইলে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে, ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হলো আরও চারজন। এছাড়াও কুমিল্লায় আরেক ছাত্রীসহ গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১০ জন।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর গতকালও ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘গতকাল ধানমন্ডিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। সাংবাদিকরা হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে সশস্ত্র হামলা করা হয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয়.কমের অফিসে। তাদের অফিসে ব্যাপক ভাঙচুরও করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করা হয়। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।’

রিজভী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন তাদেরকে নির্যাতনে বেঁধে রাখার শিকলকে চিনতে পেরেছে, অকাল মৃত্যুর দানবকে চিহ্নিত করতে পেরেছে বলেই তারা আজ নির্যাতনকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিচল, অকম্প, উদ্বেল আন্দোলনের মহাস্রোত বইয়ে দিতে পেরেছে। দুর্নীতির দুষ্ট চক্রে গোটা দেশকে বন্দী করেছে এই ভোটারবিহীন সরকার।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মন্ত্রীদের নির্দেশে আজকেও দেশব্যাপী গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কষ্ট দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই গণপরিবহন বন্ধ করেনি। মূলত পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্যকারীদের হুকুমেই পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। আজকের আন্দোলনে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে অবস্থান করছে। সরকার সুদীর্ঘ বাহু বিস্তৃত করে শিশু-কিশোরদের আন্দোলনকে দমানোর এক মহাপ্রস্তুতি গ্রহণ করে চলেছে। তারপরও ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন বেগবান।’

‘শিক্ষার্থীদের চলমান ন্যায্য আন্দোলনকে জনদৃষ্টি থেকে ভিন্ন দিকে ফেরাতে শিক্ষার্থীদের ছদ্মাবরণে ছাত্রলীগ-যুবলীগ গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ সবই করছে ছাত্রলীগ। গতকাল মগবাজারে বাসচাপায় যুবক নিহতের ঘটনায় যে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, সেটিও দাঁড়িয়ে থেকে করেছে ছাত্রলীগ। আজ ছাত্রলীগ জুরাইনে সাবেক এমপি সালাহউদ্দিনের সিএনজি পাম্পে হামলা চালিয়েছে।’