ভোলায় সাথী ফসল চাষে লাভবান কৃষকরা

দ্বীপ জেলা ভোলায় ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সাথী ফসল চাষ। সাথী ফসল উৎপাদনে বাড়তি সার, পরিচর্চা কিংবা শ্রম লাগে না। পরিমাপগত দিক থেকে ও উৎপাদন কম হয়না। বেশ জীবনকাল সম্পর্ন ফসলটির আগেই একটি ফসলটি তোলা যায়। যা বিক্রয়ে বাড়তি আয় করে পরে আসা ফসলটির খরচ বহনসহ সংসারের খরচ মেটানো সম্ভব। স্বল্প সময় ও খরচে একই জমিতে ওই ফসল ফলানো যায়।যার কারণে ক্ষুদ্র কিংবা বর্গাচাষীরা সাথী ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বোরহানউদ্দিন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এ উপজেলায় ১২৫ হেক্টর আখের আবাদ হয়েছে। যার সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের চাষীরা তাদের সুবিদা মতো সাথী ফসল উৎপাদন করছেন।

উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বিলের পর বিল জুড়ে সাথী ফসল চাষ করছে কৃষকরা। কথা হয় বর্গাচাষী এছহাক ও রেশু মিয়ার সাথে। তারা জানায়, দীর্ঘ ৬ বছর যাবত তারা একই জমিতে এক সাথে ৩ ফসল চাষাবাদ করে আসছেন। কৃষক এছহাক জানায়, তার বর্গাকৃত ৬৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষের সাথে গোলআলু চাষ করেন। সীমানা ফসল হিসাবে ভুট্রা লাগান। আলু চাষে বেশী সার দিতে হয় যা আলু খেতে পারে না। বাড়তি সার আখ ভুট্রায় খেয়ে ফেলে। তাছাড়া আলু খেতের আখ ভালো হয়।যা খুবই লাভজনক।তিনি আরো জানান, ৩ সারি আলুর পর ১ সারি আখ লাগাতে হয়। ১ হাত পর পর সারি করে আলু লাগাতে হয়। আখ পরিচর্চার সময়ের আগেই সাথী ফসল উঠে যায়।

তিনি জানান গত বছর ২৪ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করে ১লাখ টাকা এবং আলু ও ভুট্রা থেকে৬২ হাজার টাকা আয় করেন।

একই ওয়ার্ডের খোরশেদ, জাহাঙ্গীর, মালেক, কামাল, সাইদ, সহিদ, কালাম, সিরাজ ,দেলোয়ার, সাদেক সওদাগর, নেছার দালাল সহ অনেকই ওই ওয়ার্ডে প্রায় ২০-২৫ একর জমিতে সাথী ফসল চাষ করেন। তারা জানান, ডিসেম্বর মাসের বৃষ্টিতে প্রথম বার চাষ করা সব আলু নষ্ট হয়ে যায়। ওই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা এই চাষ বেছে নেন। তারা আর ও জানান, সাথী ফসল চাষাবাদ করলে কোনটারই উৎপাদন কম হয় না।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আলম, বিশ্বজিৎ দে, খায়রুল আলম জানান, সাথী ফসল হিসাবে চাষীরা লাল শাক, ধনিয়া, ডাল জাতীয় ফসল,লতা জাতীয় সবজি, টমেটো, আলু চাষ করতে পারেন। প্রতিটি ইউনিয়নের চাষীরা কম-বেশী সাথী ফসল উৎপাদন করেন বলে তারা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, শষ্যের নিবিড়তা বৃদ্বির জন্য বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে কষকদের এ কাজে উদ্ধুদ্ধকরণ করা হয়।এতে একদিকে কৃষক লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার হচ্ছে।