ভিডিও কনফারেন্সে রাজাপুরের মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সের নির্মান কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রহিম রেজা, ঝালকাঠি থেকে : দেশের প্রথম মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মিত হতে যাচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুরে। সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্পের আওতায় সবার আগে দেশের ১০ জেলায় ১০ টি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা চত্ত্বর সংলগ্ন খাদ্য গুদামের পেছনের মাঠে। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ মসজিদ কমপ্লেক্সটি নির্মাণের কার্যক্রম (ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গণপূর্ত অধিদফতরের অধীনে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ শতাংশ জমিতে ৪ তলা বিশিষ্ট এ মডেল মসজিদটি নির্মিত হবে। প্রথম পর্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজাপুরের মডেল মসজিদসহ টুংগীপাড়া, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, বগুড়া ও রংপুর এ ১০ টি স্থানে অত্যাধুনিক মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কয়েক দফায় মিটিং ও ওই স্থানটি পরিদর্শন করেছেন। রাজাপুরের নির্মানস্থলে ভিডিও কনফারেন্সিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুন, বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান ও ইউএনও আফরোজা বেগম পারুলসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন। মসজিদ কমপ্লেক্সটিতে যা থাকছে: পাঁচতলা উচ্চতার ভবনটি শুধু একটি মসজিদ নয়, মসজিদ কমপ্লেক্স। এরমধ্যে নারীদের জন্য পৃথক পৃথক অজুখানা ও নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া ইমামদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজ্বের মৌসুমে হাজীদের থাকার ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, মেহমানদের আবাসন ও বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শন এবং মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নকশা আহ্বান করে সেরা নকশাটি বাছাই করে সে আলোকে সারাদেশের মডেল মসজিদগুলো নির্মিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল প্রতি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা। আর সেই আলোকে মুসল্লিদের জন্য নামাজ ও ধর্মীয় শিক্ষা, সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ, সরকারের উন্নয়নের বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইসলামি মূল্যবোধের লালন ও পরিস্ফুটন ঘটাতে এসব মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।