ভারত গিয়ে ‘ঠকলো’ ছিটমহলের বাসিন্দারা

ভারতের কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে চারদিন ধরে আমৃত্যু অনশন করছেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে গমণকারী বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী। রবিবার পুলিশ তাদের উপর হামলাও চালিয়েছে।

মিথ্যা মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে উন্নত জীবনের আশায় প্রিয় মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে ভারতে পারি জমিয়েছিলেন তারা।

বৃটিশ ভারতে দেশ ভাগের সময় তৎকালীন পাকিস্তানের ভেতর ভারতের কিছু ছোট ভূখণ্ড এবং ভারতের ভেতর পাকিস্তানের ছোট কিছু ভূখণ্ড পড়ে যায়। এগুলো ছিটমহল হিসেবে পরিচিত। এক দেশের ভেতর অন্য দেশের ভূখণ্ড থাকায় সেখানে রাষ্ট্রীয় নাগরিক সুযোগ সুবিধার কিছুই ছিল না।

দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ছিটমহলগুলো বিনিময় করে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার। বাংলাদেশের ভেতর থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশের সীমানায়। একই ভাবে ভারতের ভেতর থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল অন্তর্ভুক্ত হয় ভারতের।

ছিটমহল বিনিময়ের সময় সেখানকার বাসিন্দাদেরকে বাংলাদেশ বা ভারতে থাকার বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়। যারা বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ছিটমহলে বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ভারত যেতে চেয়েছে তারা সে দেশে চলে গেছে। আর ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহলের বাসিন্দারা কেউ চাইলে বাংলাদেশে আসতে পেরেছে।

ভারতে বাংলাদেশের ছিটমহলের কেউ বাংলাদেশে না আসলেও ভারতীয় ছিটমহলের কয়েকশ পরিবার ভারত যায়। আর ছিটমহল বিনিময় পর্বে পরিবার প্রতি পাঁচ লাখ টাকা, বাড়ি, চাকরি, জমি ইত্যাদি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দেখিয়ে তাদের ভারতে যাওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছিল ছিটমহল ইউনাইটেড কাউন্সিল ও ছিটমহল সুরক্ষা কমিটি সহ কতিপয় সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশে এদের উপর সাম্প্রদায়িক অত্যাচার চালানো হচ্ছে, স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছে না ইত্যকার বহু অভিযোগ সে সময় প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরতেন কোচবিহারের প্রয়াত এমপি রেনুকা সিনহা, এমএলএ উদয়ন গুহ সহ আরো অনেকেই।

যখন তারা আশ্রয় কেন্দ্রে অসহায় বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন, অনশন করছেন, তখন প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন। অথচ এদের জন্যই জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, রেশন, পূনর্বাসন খাতে ভারতের কেন্দ্রিয় সরকারের কাছ থেকে রাজ্য সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছিল।