ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ

ফের বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এবারের অভিযোগের তির রেল প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। আসাম পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোঁহাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। ২২ বছর বয়সী এক বিবাহিতা তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছেন। অবশ্য ওই নারীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল করার পাল্টা মামলা করেছেন রাজেন।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২ আগস্ট আসামের একটি থানায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের মামলা হয়। নওগাঁ থানার ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট সবিতা দাস বলেন, নওগাঁ পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করার পর পুলিশ মামলা হিসেবে নিয়েছে তা।

যদিও রাজেন গোঁহাই সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিকভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চক্রান্ত চলছে। পুরোটাই রাজনৈতিক চক্রান্ত। ওই নারীর অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।

সাংবাদিকদের রাজেন বলেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। ২০০৬ বা ২০০৭ সালের ভিডিও দেখিয়ে বদনাম করার চেষ্টা চলছে।

অভিযোগকারী ওই নারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নওগাঁর পুলিশ সুপার শঙ্কর বি রাইমেধি সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ মামলা হাতে নিয়েছে। অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠি পেলেও তাঁরা তদন্ত চালিয়ে যাবেন। ওই তরুণীকে চিকিৎসক পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবেন। সামাজিক গণমাধ্যমে প্রচারিত ছবি পরীক্ষা করা হবে।

উত্তর প্রদেশের উন্নাহে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেনগার এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নাবালিকা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। সিবিআই বিজেপি বিধায়ককে অভিযোগের সাত মাস পর গ্রেপ্তার করে।

যদিও আসাম পুলিশ গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তারা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করছে।

মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী সুস্মিতা দেব বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির বেটি বাঁচাও কর্মসূচির বদলে মানুষ এখন বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের হাত থেকে মেয়েদের বাঁচাতে ব্যস্ত। উন্নাহ থেকে আসাম। সর্বত্রই এক ছবি।’

উন্নাওতে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। কাঠুয়া ধর্ষণকাণ্ডে ধর্ষকদের সমর্থনে মিছিল করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির মন্ত্রীদের। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর উচিত রাজেন গোঁহাইদের মতো মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়া।