ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়েছে কার্লাইলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড এলেক্স কার্লাইল ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

দিল্লি থেকে লন্ডনে ফিরেই এক ভিডিও বার্তায় কার্লাইল বলেন, ‘ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি আমার শ্রদ্ধা চুরমার হয়ে গেছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে তারা যেভাবে নতি স্বীকার করলো এবং সত্তর বছর বয়সী একজন পার্লামেন্টারিয়ানের সঙ্গে যে আচরণ করল তাতে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, কৈফিয়ত দেওয়া উচিত।’

দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড হওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনি পরামর্শক হিসেবে গত মার্চের শেষে নিয়োগ পান কার্লাইল। এরপর মে মাসের শুরুতে কাতারভিত্তিক ইংরেজি গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এই মামলার বিষয়ে একটি সাক্ষাৎকার দেন তিনি যেখানে দাবি করা হয়, খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার মতো কোনো কিছু ছিল না এই মামলায়।

এরও দুই মাস পর বৃহস্পতিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা এবং খালেদা জিয়ার মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কার্লাইল সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। আর দেশটিতে যেতে তিনি ভিসাও পান।

এর মধ্যে এই সফর নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার বক্তব্য ছিল কার্লাইল যদি দিল্লিতে এসে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে কথা বলেন তাহলে সেটা হবে দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে একটা ‘পেইড পলিটিক্যাল ক্যাম্পেন’ – অর্থাৎ পয়সা নিয়ে চালানো রাজনৈতিক প্রচারণার সামিল।

ভারত যে এভাবে ‘তাদের মাটিকে বাংলাদেশ-বিরোধী প্রচারে’ কাজে লাগাতে দিতে পারে না, ঢাকার সেই মনোভাবও দিল্লির কাছে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল।

গত বুধবার রাতে বৈধ ভিসা নিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে নামলে তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর দিল্লি থেকে লন্ডনে ফিরে এক ভিডিও বার্তায় ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা জানান ব্রিটিশ এই প্রবীণ আইনজীবী।

ভারতের বিমানবন্দরে যে কিছুক্ষণ তিনি ছিলেন, সেখানে শুধুমাত্র একজন তরুণ পোর্টার তাকে অসম্ভব সাহায্য করেছিল বলে জানান তিনি। বলেন, ‘ভারতে ওই একজন মাত্র লোকের ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

ভিসা বাতিলের বিষয়ে কার্লাইল বলেন, ‘আমি যখন দিল্লিতে নেমে আমার ফোন অন করলাম, দেখি আমার ভিসা বাতিল করা হচ্ছে বলে আমাকে মেসেজ পাঠানো হয়েছে। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আমাকে জানানো হল আমাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, ইমিগ্রেশনের কর্মীরা খুবই ভদ্র ও বিনীত ছিলেন, তারা আমার সঙ্গে এমনিতে খুবই সুন্দর আচরণ করেছেন। কিন্তু তাদের কাছে কোনও জবাবই ছিল না যে কেন আমাকে ঢুকতে দেওয়া যাবে না।’

এছাড়া পুরো বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে খুব শিগগির বিস্তারিত সাংবাদিক সম্মেলন করে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

কার্লাইলের ভিসা বাতিলের কারণ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, ‘লর্ড কার্লাইল যে কারণ দেখিয়ে ভিসার আবেদন করেছিলেন- আর তার সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য- এসবের মধ্যে কোনও সাযুজ্য নেই বলেই আমরা তার ভিসা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পরে তিনি আরও বলেন, ‘লর্ড কার্লাইল ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন- এমন সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।’ সূত্র: বিবিসি

Inline
Inline