ভারতীয় প্রতিমন্ত্রীর চোখে বাংলাদেশ ‘বড় হুমকি’

ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পাকিস্তান এবং চীন থেকেও বাংলাদেশ বড় হুমকি বলে বর্ণনা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হান্সরাজ গঙ্গারাম আহির। সে দেশের সরকারের অবস্থানের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের বহুলালোচিত বন্ধুত্বকে ‘তথাকথিত’ বলেও আখ্যায়িত করেন কট্টরপন্থী এই বিজেপি নেতা।

বৃহস্পতিবার দিল্লীতে ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান আসোচ্যাম আয়োজিত জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক এক সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী হান্সরাজ আহির বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতের শুধু তথাকথিত বন্ধু। কারণ এর প্রমাণ রয়েছে যে, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ভারতের বড় বড় ক্ষতি করে চলেছে।’

আসোচ্যামের অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইণ্ডিয়া (পিটিআই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টায় রত। ১৯৭৪ সালে করা মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ ভূমি বিনিময় করেছে বিজেপি সরকারের আমলেই যাতে বাংলাদেশ অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার একর জমি পেয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশীদের মধ্যে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও জানিয়েছেন।

তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু চীন কিংবা পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশও এদের মত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি বড় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। আমি এটা জানি, কারণ আমি এসব ব্যাপার খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি’।

মহারাষ্ট্র থেকে চারবার লোকসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত গঙ্গারাম আহির ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাশ্মির এবং অন্যান্য সীমান্তে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া কেরালায় মাওবাদী তৎপরতায় তরুণদের জড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ এবং রেল ও বিমানবন্দরসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধানেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।’

সীমান্তে চীনের সাম্প্রতিক আগ্রাসী তৎপরতার কথা উল্লেখ করে ভারতীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চীন আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নয়, কারণ দেশটি বরাবরই ভারতের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে। হোক সে চীন, মিয়ানমার বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তান থেকে আসা কোনো সন্ত্রাসী, আমরা নানাবিধ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাব’। অযোধ্যার মন্দির নিয়ে শেষ পর্যন্ত একটা সমাধান হতে যাচ্ছে জানিয়ে আহির ভাষণে সন্তোষ প্রকাশ করেন গঙ্গারাম।

হান্সরাজের বাংলাদেশ-বিরোধী অবস্থান এবং বিবৃতির সাথে খোদ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বিজেপা নেতা নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতির কোনো মিল নেই। গত সপ্তাহে শেখ হাসিনার সাথে এক ভিডিও কনফারেন্সে আলাপকালে মোদী ও শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে কথা বলেন। খুলনা-কলকাতা রেলপথে নতুন ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস এর উদ্বোধন উপলক্ষে দুই প্রধানমন্ত্রী সৌহার্দ্যপূর্ণ বাক্য বিনিময় করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুধু রেল নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন চাই। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি করে সার্বিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এতে দুই দেশের জনগণই লাভবান হবে। বাংলাদেশে আসার জন্য নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণও জানান শেখ হাসিনা। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাংলায় বলেন, ‘আমাদের মৈত্রী ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় হলো।’