ভাগ্যলিপি: ইসলাম কী বলে

একজন মুসলমানকে যেসব মৌলিক বিষয়ের ওপর ইমান আনতে হয় এর মধ্যে তাকদির একটি। তাকদির বা ভাগ্যলিপি সম্পর্কে ইসলামে নানা বিতর্ক আছে। ‘ভালো-মন্দ সব আল্লাহ করেন’ এই বিশ্বাস একজন মুসলমানকে রাখতে হয়। তবে তাকদিরের ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে। ভালো-মন্দ সবই আল্লাহর কাছ থেকে আসে-এ বিষয়টি আমাদের মেনে নেয়া একান্ত কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।

তাকদিরের ব্যাখ্যা বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ আছে। এক সাহাবি রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আমাদের রোগব্যাধির চিকিৎসার জন্য যে দোয়া, তাবিজ ও ওষুধ ব্যবহার করি এবং বিপদ মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করি, এগুলো কি আল্লাহর তাকদিরকে (নির্ধারিত ব্যবস্থা) ঠেকাতে পারে? তিনি জবাবে বললেন, এসব ব্যবস্থাও তো আল্লাহর তাকদিরেরই অন্তর্ভুক্ত (তিরমিজি)। হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন : তোমাদের প্রত্যেকের দোজখ ও বেহেশত নির্ধারিত হয়ে আছে। লোকেরা বলল, হে রাসুল, তাহলে আমরা আমাদের নিজ নিজ নির্ধারিত ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে কাজ কর্ম ছেড়ে দিই না কেন? রাসুল (সা.) বললেন: না, কাজ করে যাও। কেননা যাকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজই সহজ করে দেয়া হয়। যে ব্যক্তি সৌভাগ্যশালী, তাকে সৌভাগ্যজনক ও বেহেশতে যাওয়ার উপযোগী কাজ করার সামর্থ্য দান করা হয়। আর যে ব্যক্তি হতভাগা ও জাহান্নামি, তাকে জাহান্নামে যাওয়ার উপযোগী কাজ করার সামর্থ্য দেয়া হয়।

পূর্ব নির্ধারিত ব্যবস্থার নামই তাকদির বা অদৃষ্ট। এ ব্যাপারে কোরান হাদিসে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। তাকদির নিয়ে অহেতুক বিতর্ক বা বিভ্রান্তিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। মুমিনের দায়িত্ব হলো কাজ করে যাওয়া। সফলতা-ব্যর্থতা নির্ণয়ের দায়িত্ব আল্লাহর। কে সফল হবে আর কে ব্যর্থ হবে সেটা মহান স ষ্টা আগে থেকেই জ্ঞাত। তবে সেটা তার স ষ্টাসুলভ জ্ঞান। এই জানার দ্বারা মানুষের কৃতকর্মের মধ্যে কোনে হেরফের হবে না। দুনিয়াতে যে যেমন আচরণ করার কথা তেমনই করবে।

Inline
Inline