ভবন ভাঙতে সময় পেতে আশাবাদী বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর হাতিরঝিলের বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়েছে সংগঠনটি। তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের এই সংগঠনটি আশা করছে অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের অবদান বিবেচনা করে আদালত তাদের এ সময় দেবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এই কথা জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ভবন ও নতুন ভবন নির্মাণ বিষয়ে আমাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্যই আজকের এ সংবাদ সম্মেলন।বিজিএমইএ সভাপতি জানান, রাজধানী উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে ১৭ নম্বর সেক্টরের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্ধেক মূল্যে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণে সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির বরাদ্দ দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জায়গায় টাকা পরিশোধ করেছি। ভবন নির্মাণে কনসালসেন্ট নিয়োগ দিয়েছি। আশা করছি এক বছরের মধ্যে অফিস চালানোর মতো অবস্থা হবে।পোশাক শিল্প ইমেজনির্ভর শিল্প উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পোশাক শিল্পের মুখপাত্র সংগঠন বিজিএমইএ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ছয় মাস সময় দিয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজিএমইএর বর্তমান ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা রায় ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই বলে আসছি নতুন ভবন নির্মাণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চলে যাবো।বিজেএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাকশিল্প দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত। সংগঠনটি ৩২০০ কারখানা ও ৪৪ লাখ শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সংগঠনের সব দাপ্তরিক কাজ হয় বিজিএমইএ ভবনে। বিজিএমইএ বেসরকারি খাতের সংগঠন হলেও অনেক সরকারি কাজও করতে হয়। সদস্যভুক্তে প্রতিষ্ঠানের ইউডি, ইউপি, সি/ও এবং মেশিনারিজ আমদানির প্রত্যয়নপত্র বিজিএমইএর দপ্তর থেকে দেওয়া হয়। এ দাপ্তরিক কাজ সুচারুভাবে করার জন্য একটি ভবন ভাড়া করার চেষ্টা করেছি আমরা। তবে ৩০০ কর্মীর কাজ করার মতো উপযুক্ত ভবন না পাওয়ার কারণে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশমতো নির্ধারিত সময়ে ভবনটি স্থানান্তর করতে পারিনি।নতুন জমি, ভবন নির্মাণ ও অফিস স্থানান্তরের বিষয়ে সমিতির সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে কি না? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান ভবনে বিজিএমইএর যে সদস্যদের মালিকানা আছে এবং যাদের নাই, কারো মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নাই। সবাই ইমেজ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি। আদালত আমাদের চলে যেতে বলেছেন, জমি পেয়েছি, চলে যাবো, তবে এর জন্য উপযুক্ত সময় প্রয়োজন।এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সময় না পেলে কী হবে সেটা পরে দেখা যাবে। আগে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।সম্প্রতি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ভবন ভাঙতে এক বছরের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।গত ১২ মার্চ ছয় মাসের সময় দিয়েছে আপিল বিভাগ। বিজিএমইএ এর তিন বছরের আবেদনের শুনানি নিয়ে ওইদিন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ ভবন ভাঙতে ছয় মাস সময় দেন।বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন করে বিজিএমইএ। আবেদনে আপিল বিভাগের রায় স্থগিত করে বহুতল ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়।এর আগে গত বছরের ৮ নভেম্বর বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায়। গত ২ জুন বিজিএমইএর কর্তৃপক্ষের করা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চার সদস্যের বেঞ্চ। হাইকোর্টের রায়ে ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১১ সেপ্টেম্বর।
জমির মালিকানা না থাকা ও জলাধার আইন লঙ্ঘন করে হাতিরঝিলে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভবনটি ভেঙে ফেলতে রায় দেয় হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ওই বছর ২১ মে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে।সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি(অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, মাহমুদ হাসান খান (বাবু) প্রমুখ।