ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও সরাইলে দু’টি ডাকাতি ও দুই যুবক খুনের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। এতে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠন করা বিভিন্ন মালামালও।

শনিবার রাত থেকে বুধবার ভোররাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার সকালে আশুগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ফকির।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, ডাকাতি ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রথমে আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রাম থেকে আবু তালেব সুমনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যমতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ১৩ নভেম্বর রাতে আশুগঞ্জ থেকে লুট হওয়া ৭২ পিস প্লাস্টিকের দরজা ও ১৮ নভেম্বর সরাইল থেকে লুট হওয়া মাছ বিক্রির ১ লাখ ৪ হাজার ৬৯৫ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রামের আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে আব্দুল হক, সুলেমান মিয়ার ছেলে আবু তালেব সুমন, বাদল মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকার লক্কু মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও শাহজাহান মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ১৩ নভেম্বর রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একদল ডাকাত একটি মালবাহি পিকআপ ভ্যান ছিনতাই করে বাহাদুরপুর-তালশহর সড়কে নিয়ে যায়।এসময় ভ্যানে থাকা ৭০ পিস প্লাস্টিকের দরজা,মোবাইল সেট সকল মালামাল লুট করে গাড়িতে থাকা দেওয়ান এন্টার প্রাইজের ম্যানেজার কামাল আহাম্মেদকে ছরিকাঘাত করে হত্যা করে ডাকাতরা। নিহত কামাল হবিগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহকায়ক। গত ১৮ নভেম্বর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার বেড়তলা এলাকা থেকে ডাকাতরা একটি মাছ বোঝাই ট্রাক লুট করে নিয়ে যায়। এসময় মাছের মালিক রফিক মিয়াকে ছুড়িকাঘাত করে হত্যা করা হয়। নিহত রফিক রাজশাহী জেলার বাগমারা সাপুর এলাকার সদর মোল্লার ছেলে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ ও সরাইল থানায় পৃথক ২টি মামলা রজু করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সরাইল সার্কেল মো. মনিরুজ্জামান ফকির,আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম তালুকদার, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ মেজবাহ উদ্দিনসহ পুলিশের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সরাইল সার্কেল মো. মনিরুজ্জামান ফকির জানান, দুটি ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠন করা মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতরা ডাকাতি ও হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এছাড়াও তাদের সাথে জড়িত আরো যারা আাাছে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।