ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতায় জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৫তম বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার : ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকাস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এ সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্থার স্থায়ী পরিষদ, প্রেসিডিয়াম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, সাধারন পরিষদ সদস্য ও সাধারন সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন। meeting
প্রকাশ, দেশের বৃহত্তম সাংবাদিক সংগঠন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বার্ষিক সাধারন সভা জাঁকজমক আনুষ্ঠানিকতায় শেষ হয়েছে। ৩১শে ডিসেম্বর সকাল ১০টার এ সাধারন সভায় অংশগ্রহনের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সদস্যগন দু একদিন আগে থেকেই ঢাকায় আসতে থাকেন। সকালে সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হয়ে শুরু করেন নিজেদের রেজিস্ট্রেশনের কার্যাদি। সভাকক্ষ পূর্বথেকেই বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়। সভা সূষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১২জন ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা হয় এবং তাদেরকে ভলেন্টিয়ার কার্ডও প্রদান করা হয়। সভাস্থলের এক কোণে সংস্থার দু’জন ভলেন্টিয়ারকে আগত সদস্যদের রেজিস্ট্রেশন কার্য সম্পন্ন করতে ব্যস্ত দেখা যায়। নিয়মিতভাবে প্রতি সদস্যের নাম এন্ট্রির পর তাদের প্রত্যেককে ফাইল, নিউজ প্যাড, ক্যাপ, পত্রিকাসহ অন্যান্য কাগজপত্র এবং খাবারের কূপন দেয়া হয়।
প্রায় এক ঘন্টা দেরীতে সভার কাজ শুরু হয়। এসময় সভা কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। সংস্থার মহাসচিব সভাপতির অনুমতিক্রমে সভার কাজ শুরু করেন এবং সভা পরিচালনার দায়িত্ব সংস্থার প্রশিক্ষন সচিবের উপর ন্যস্ত করেন। অতিথিদের আসন গ্রহনের পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু সভার মূল আলোচনা অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। এ পর্বে সভাপতিত্ব করেন দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং এ সংস্থার সভাপতি মুহম্মদ আলতাফ হোসেন। মঞ্চে উপবিষ্ট অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর লিয়াকত আলী, উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি শাহজাহান মোল্লা, মো: আলমগীর গনি, মহাসচিব সাজ্জাদুল কবীর, বিভাগীয় সভাপতিদের মধ্য থেকে মংমনসিংহ বিভাগের সভাপতি মামুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৩৫তম বার্ষিক সাধারন সভার ও সংস্থার সভাপতি মুহম্মদ আলতাফ হোসেন। সভাপতি তার বক্তব্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনাসহ ২০১৭ সালকে যোগাযোগ বর্ষ উল্লেখ করে বলেন, ২০১৭ সালে আমরা নূতন পূরাতন সকল সদস্যদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে সেতুবন্ধন গড়ে তুলব। মুহম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ৩৫ বছর যাবত সাংবাদিক নিয়ে পেশাগত মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। তিনি সকলকে ইতিবাচক সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান। এর পর সংস্থার মহাসচিব ২০১৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠ করেন। এসময় তিনি ২০১৭ সালের একটি কর্ম পরিকল্পনাও প্রস্তাব আকারে পেশ করেন। সংস্থার অর্থ সচিব শাহাদাৎ হোসেন রিটন ২০১৬ সালের আর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন। এর পর সংস্থার সভাপতি মুহম্মদ আলতাফ হোসেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর লিয়াকত আলীকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নাম খচিত মগ উপহার দেন। এসময় সিলেট কবি সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে সভাপতি মুহম্মদ আলতাফ হোসেনকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়।  
সভার দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর লিয়াকত আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহ্জাহান মোল্লা, সহ-সভাপতি আলমগীর গনি, যুগ্ম-মহাসচিব কাজী সিরাজুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সামসুল আলম জুলফিকার, সাংগঠনিক সচিব আবুল বাশার মজুমদার, সহকারী মহাসচিব আবু মুসা, প্রচার সম্পাদক ডা: এসএম সারওয়ার, মানবাধিকার সচিব আকাশ মাহমুদ মোল্লা, খুলনা বিভাগীয় সচিব এ্যাড, এ বি এম সেলিম, ঢাকা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সালেক ভুইয়া, ময়মনসিংহ বিভাগ সভাপতি মো: মামুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সংস্থার প্রশিক্ষণ সচিব অধ্যক্ষ আবু হানিফ খান। এ সময় জেলা-উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংস্থার স্থায়ী পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ, সাধারণ পরিষদ ও সাধারন সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২য় পর্বের সভাপতি লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল তার বক্তব্যে বলেন, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও সু-শাসন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী গণমাধ্যম অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা দেশের উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে আসছেন, টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অত্যাবশ্যক।  সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর লিয়াকত আলীকে সংস্থার লোগো খচিত মগ স্মারক স্বরূপ উপহার দেন স্থায়ী পরিষদ সভাপতি মো: গনি মিয়া বাবুল  ।
সভা সমাপ্তির পর শুরু হয় ফটোসেশন, সেলফি ও মোবাইল নম্বর দেয়ানেয়া। অবশেষে টোকেন জমা দিয়ে খাবারের প্যাকেট ও পানি সংগ্রহ করে সকলকে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহন করতে দেখা যায়। গোটা অনুষ্ঠানটিই হয়ে ওঠে এক মিলন মেলায়।  
ভলেন্টিয়ার হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করে যারা অনুষ্ঠানটির শৃঙ্খলা বজায় রেখে সকলকে সহযোগীতা করেন তারা হলেন, শাহীনুল ইসলাম শাহীন, প্রিয়াংকা ইসলাম, ইমতিয়াজ মিতুল, আশীষ কুমার অঞ্জন, নাজির হোসেন, আমেনা বেগম, মো: আব্দুল জলিল, মিন্টু শেখ, মো: মহসিন, অজয়, আনোয়ার হোসেন ও মতিলাল দাস।