ব্যাংকের অবস্থা করুণ: বিজিএমইএ সভাপতি

নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্নীতির কারণে ব্যাংকিং সেক্টর বর্তমানে ভালো নেই মন্তব্য করে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জানি অনেক ব্যাংকের অবস্থা খুবই খারাপ। একটি ব্যাংক দুর্নীতি করে টাকা নিল । আবার তাকে ৬০০ কোটি দিলেন। তার মানে কী? আপনি দুর্নীতি করার জন্য আর ১০টি ব্যাংককে উৎসাহিত করছেন? এটাতো কোনো অবস্থায়ও উচিত না ।’

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিজিএমইএ ভবনের নূরুল কাদের মিলনায়তনে ‘বিজিএমইএ-বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলোশিপ-২০১৭’অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

সিদ্দিকুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ব্যাংকে যারা দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে কী পদক্ষেপ নিয়েছে।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি চুরি করি আজকে আমাকে আবার ১০০ কোটি টাকা দেবেন এই চুরিকে জায়েজ করার জন্য।’

প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরকে আরও আইনের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করছি। এভাবে একজন আরেকজনের ওপর, আরেকজন আরেকজনের ওপর দোষ চালিয়ে দেবেন না। আমি আশা করি পরবর্তী মিটিংয়ে এটা আপনি উঠাবেন। ব্যাংক নিয়ে কথা বলুন। ব্যাংকের অবস্থা ভালো না। আমরা নিজেরাও বুঝি, আমরা ব্যবসা করি।’

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘একটি ব্যাংককে ৬০০ কোটি টাকা দিলেন। তারা দুর্নীতি করে টাকা নিল। আবার ৬০০ কোটি দিলেন। এটা না করে উচিত ওই ব্যাংককে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মার্জ (একীভূত) করে দেয়া। ব্যাংকের যারা পরিচালক (দুর্নীতিবাজ) আছেন তাদের বাদ দিয়ে দেন। এভাবে অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’

প্রসঙ্গত, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ (মোট বিতরণ করা ঋণের) ১০ শতাংশের বেশি। এ অবস্থায় বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য দুটি ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর একটি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা যা আগে ছিল ২৫ শতাংশ। গতকাল রবিবার একটি হোটেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির বৈঠকের অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি বলেন, ‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এই চিত্র প্রমাণ করে, বহির্বিশ্বে স্বার্থান্বেষী মহলের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ছে।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘এ শিল্পের কারখানার নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা জোরদার, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, কারখানা পরিদর্শন জোরদার করাসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।’

বিজিএমইএ-বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলোশিপ-২০১৭ এ নির্বাচিত হলেন যারা:-

একাত্তর টিভির স্টাফ রিপোর্টার কাবেরি মৈত্রীয়া, দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার আবু হেনা মুহিব, ডেইলি সানের স্টাফ করেসপেন্ডেন্ট জসিম উদ্দিন, মানবকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মফিজুল ইসলাম চৌধুরী, কালের কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রাশেদুল তুষার ও এনটিভির সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মোহাম্মদ হাসানুল আলম শাওন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিজিএমইএ এর প্রথম সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন আহমেদ (মিন্টু), সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির, বিইউএফটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিজামুদ্দিন আহমেদ এবং বিজিএমইএ বিইউএফটি জার্নালিজম ফেলেশিপের তিনজন মেন্টর, একুশে টিভির সিইও এবং প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত, গাজী টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।