বেড়েছে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা; শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য

২০১৭ সালে ৩৮৪৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এরমধ্যে ১৭১০ শিশুর অপমৃত্যু ও ৮৯৪ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গড়ে প্রতিমাসে ২৮ শিশু হত্যা এবং ৪৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম তাদের বার্ষিক শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৭ পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানায়। দেশের ১০টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সংগঠনটি এ তথ্য প্রকাশ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ২০১৬ সালের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার বা প্রত্যাশিতভাবে না কমার কারণ মূলত বিচারহীনতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, অপরাধী অপেক্ষাকৃত প্রভাবশালী এবং স্থানীয় সালিসে এক ধরনের আপস-মীমাংসার প্রবণতা।

গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘স্টেট অফ চাইল্ড রাইটস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক ও আয়োজক সংগঠনের চেয়ারপারসন এমরানুল হক চৌধুরী।

সংগঠনের পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ শিশু পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ২০১৭তে মোট ৫৯৩টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ৭০টি শিশু গণধর্ষিত হয়েছে, ৪৪টি প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শিশু ধর্ষিত হয়েছে, ২২টি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৭টি শিশু ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়াও ৭২টি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। ২০১৭ সালে ৫১টি শিশু ইভটিজিং এবং ৯০টি শিশু যৌন নিপীড়ন/হয়রানির শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫টি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেই সাথে অব্যাহতভাবে বেড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে বখাটেদের উত্পাত এবং পর্নোগ্রাফির শিকারের ঘটনা। ২০১৭তে বখাটেদের হাতে লাঞ্ছনা, মারধর এমনকি হামলা জখম হয়েছে ৬২ মেয়ে শিশু এবং প্রতিবাদ বা প্রতিহত করতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় আহত হয়েছে ৫০ অধিক অভিভাবক।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে শিশু হত্যা এবং ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০১৭ সালে ৩৩৯টি শিশু হত্যা এবং ৫৯৩টি শিশু ধর্ষণে শিকার হয়েছে যা ২০১৬ সালের চেয়ে যথাক্রমে ২৮ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশ বেশি। সেই সাথে বেড়েছে গণধর্ষণ, প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, বখাটেদের মারধর-কুপিয়ে জখম করা এবং গোপনে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা।

২০১৬ সালে ৩৫৮৯টি শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল যাদের মধ্যে ১৪৪১ শিশু অপমৃত্যুর এবং ৬৮৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। অর্থাত্ ২০১৭ সালে সামগ্রিকভাবে শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যার মধ্যে শিশু অপমৃত্যু এবং যৌন নির্যাতন বেড়েছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, শিশু পরিস্থিতি গত বছরের চেয়ে অবনতি হয়েছে। বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। শিশুরা সবসময় বলতে পারে না তারাই সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের একটি বৃহত্ অংশ শিশু, তাদের জন্য একটি অধিদপ্তর কেন থাকবে না। একটি পৃথক অধিদপ্তর ও কমিশন গঠনের কথাও বলেন তিনি। সে ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।