বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর সীমাহীন দুর্ভোগ বৃষ্টির মাঝে পাসপোর্ট যাত্রীর দীর্ঘ লাইন

এসএ মারুফ, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল দেশের বৃহত্তর স্থল বন্দর। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যাওয়া-আসার বেশ সুবিধার কারণে দেশের সিংহভাগ পাসপোর্ট যাত্রী এ পথেই যাতায়াত করে থাকেন। পাসপোর্ট যাত্রীর সংখ্যা বাড়লে বন্দর কর্তৃপক্ষ আনন্দটাও যেন বেশ বাড়ে। প্রতিটি যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি চার্জ বাবদ বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৫ টাকা নিলেও এখনো বন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রী সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছেন।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের নিচ তলা পাসপোর্ট যাত্রীর বসার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তার বেশিরভাগই জায়গা দখল করে আছে কাস্টমস স্কানার মেশিনে। বাকি জায়গার এক পাশে ওয়াশরুম ও সোনালী ব্যাংক। আর সামান্য জায়গার ভিতর হাজার হাজার যাত্রীর মধ্যে মাত্র ৫৪ জন মানুষের বসার ব্যবস্থা করে প্রতিটা যাত্রীর কাছে থেকে বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪২.৭৫ টাকা খাতা-কলমে থাকলেও বাস্তবে তারা নিচ্ছে ৪৫ টাকা।
ভারত গামী তীর্থযাত্রী মৃদুল কান্তি চৌধুরী বলেন, আমরা ২০৫ জনের দুটি দল তীর্থযাত্রী ভারতের উদ্দেশ্যে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে আছি। এখন হালকা বৃষ্টি, বৃষ্টির ভিতরেও আমাদেরকে এভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অথচ বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর চার্জ হিসাবে যাত্রীর কাছ থেকে ৪৫ টাকা নিলেও কোনো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না। যদি তারা যাত্রী সেবা দিত তাহলে আমাদের এভাবে ঠান্ডার মধ্যে বৃষ্টিতে ভিজতে হতো না। আমরা জানি পরিশ্রমের পরেই পারিশ্রমিক পাওয়া যায় অথচ এখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন সেবার মান না দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে বাড়তি চার্জ দিতে হয়। আমি মনে করি এটা কোন আইন হতে পারে না, বন্দর কর্তৃপক্ষ বাড়তি চার্জ নেওয়ার আগে যাত্রীর সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতগামী কংকং চন্দ্র দাস বলেন, এটা কোন দেশের আইন হতে পারে না এটা এক প্রকার নীরব ডাকাতি। এখানে এসে দেখছি কর্তৃপক্ষের আইনটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা সুবিধা দেওয়ার নামে আমি মনে করি আমার মতো প্রতিটি যাত্রীকে তারা নীরব যন্ত্রণা দিচ্ছে। ভারতের সবাই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে নয় অনেক অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার আশা নিয়ে ভারতের দিকে রওনা হয়। ভালো চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তু মনে হচ্ছে এখানে অসুস্থ ব্যক্তি অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। তাই আমি আশা করি বন্দর কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে একটু বেশি নজর রাখবেন। শুধু বাড়তি চার্জের প্রতি নয় পাশাপাশি যেন যাত্রী সেবার মান নিশ্চিত করেন।