বেকারত্বকে জয় করা এক স্বাবলম্বী নারীর নাম কাজী শান্তা

আ. রাজ্জাক শেখ, রূপসা (খুলনা) প্রতিনিধি : পারিবারিক বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে বেকারত্বকে জয় করা এক স্বাবলম্বী নারীর নাম কাজী নাসরিন আক্তার শান্তা। নারী হয়েও ছোট বেলা থেকেই যার আকাংখা ছিল জীবনে সফল হওয়ার। তীব্র আকাংখাকে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি একজন সফল নারী। নিজে সফলতার পাশাপাশি অসংখ্য নারীকে বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন।

সূত্র জানায়, খুলনার বি.কে. মেইন রোড এলাকার কাজী মোসলেম আলীর কন্যা কাজী শান্তা। ১৯৯৯ সালে খুলনার পাইওনিয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এস এস সি, ২০০১ সালে সরকারী সুন্দরবন আদর্শ কলেজ থেকে এইচ এসসি, ২০০৪ সালে সরকারী বি এল কলেজ থেকে ¯œাতক পাশ করেন। সফলতার অদম্য আকাংখা নিয়ে লেখা-পড়ার পাশা-পাশি তিনি হাতের কাজ, সেলাই, বোলাক-বাটিক, কারচুপি, দর্জি বিজ্ঞান, রান্নাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করে সফলতার জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু পরিবার রক্ষণশীল হওয়ায় তারা কিছুতেই এটা মেনে নিতে চাইতো না। যার কারণে সফলতার আকাংখা আরো তীব্র হতে থাকে। এক পর্যায়ে ২০০৫ সালে নিকটতম এক আত্মীয়ের মাধ্যমে ঢাকার পারসোনা বিউটি পার্লারের ধানমন্ডি শাখায় প্রশিক্ষণের কাজ শুরু করেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে খুলনায় এসে অর্থের অভাবে যৌথভাবে পার্লারের ব্যবসা আরম্ভ করেন। কিছু দিন পর যৌথ ব্যবসা তুলে দিয়ে নিজেই পার্লারের ব্যবসা শুরু করেন। তারপর সেখানে নিখুঁত কাজ ও ব্যবহারের কারণে কাস্টমারের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে কাস্টমার হিসাবে আসা ইউ এন ডি পি’র একজন লেডি অফিসারের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তাদের কিছু শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। তারপর ১১ জন শিক্ষার্থীকে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ প্রদান করে মান সম্মত সম্মানী গ্রহন করেন। এরপর তার নিজস্ব পার্লারের পাশে হল রুম ভাড়া করে ব্যাচ হিসাবে ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে থাকেন। পাশা-পাশি পার্লারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ”ওমেন্স হেভেন” নামে বিভিন্ন স্থানে ৩ টি পার্লারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তার প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে পার্লার করে স্বাবলম্বী হয়েছে। বর্তমানে ইউ এন ডি পি ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে রূপসা এবং ফুলতলা উপজেলার প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবু বকর মোল্লা বলেন, শান্তা ম্যাডাম মান সম্মত প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। তার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রূপসার অনেক শিক্ষিত বেকার মেয়েরা স্বাবলম্বী হচ্ছে। কাজী নাছরিন আক্তার শান্তা বলেন, বর্তমানে দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত বেকার নারী রয়েছে। আমার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অসংখ্য নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাই এবং তাদের মাঝে আজীবন ভালোবাসা নিয়ে বেচে থাকতে চাই।

Leave a Reply