বৃহস্পতিবার রাজশাহী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার রাজশাহী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ দিন তিনি রাজশাহীর ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এছাড়া বাস্তবায়ন হওয়া ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি।রাজশাহীর নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শরীফ আসিফ রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এসে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার মোট ২২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এসব প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন নিজ নিজ তত্ত্বাবধানে থাকা প্রকল্পগুলোর নামফলক তৈরিতে ব্যস্ত। আগামী বৃহস্পতিবার জেলার পবা উপজেলার হরিয়ান চিনিকল মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব নামফলক উন্মোচন করবেন।প্রধানমন্ত্রী যে ১৬টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক। ২০১১ সালে রাজশাহীতে এক জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর এই পার্ক গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার তিনি রাজশাহী এসে সেই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।রাজশাহী মহানগরীর নবীনগর এলাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমিতে ২৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পার্কটির নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হবে ২০১৯ সালের জুনে। ডিজিটাল ইকোনমিক হাব হিসেবে নির্মিতব্য এই পার্কে প্রায় ১৪ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখানেই তৈরি হবে বিশ্বমানের সফটওয়্যার।প্রধানমন্ত্রী তার সফরে পদ্মাপাড়ের এই হাইটেক পার্ক ছাড়াও ‘তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজ (আইসিটি) সমূহের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গুলগোফুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮২ টাকা।একই প্রকল্পের আওতায় এবং সমপরিমাণ ব্যয়ে মোহনপুর উপজেলার পাকুড়িয়া কলেজ ও বাগমারার মাড়িয়া কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি জেলার চারঘাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এখানে ব্যয় হবে ১৭ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৮ টাকা। তানোরের চাঁন্দুড়িয়া এলাকার ডা. আবু বকর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তালিকায় রয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের ভবন নির্মাণ, ২৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর সোনাইকান্দি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ২ কোটি ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, রাজশাহী নগরীর তালাইমারী চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ, নগরীর কোর্ট স্টেশন থেকে বাইপাস এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাটোর বাইপাস পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ।এছাড়াও আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী সরকারি শিশু হাসপাতাল, ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বারনই আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প ও ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রান্তিক আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানকে দুর্যোগ ঝুঁকি সংবেদনশীলকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিকে প্রধানমন্ত্রী তার সফরে আরডিএ’র বনলতা বাণিজ্যিক এলাকার সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন। এক কোটি ৬৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা অফিস ভবনেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। এছাড়া তিন কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত ভবনেরও উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা।প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় আরও রয়েছে, ৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার ৯৭২ টাকা ব্যয়ে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাজশাহী মহানগরীর টিকাপাড়া এলাকার আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টারের ছয়তলা ভবন এবং প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারণ করা বাগমারা উপজেলা পরিষদের হলরুম।রাজশাহী জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন হতে যাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে শুধু হাইটেক পার্কের কাজ করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। বাকিপ্রকল্পগুলো রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, আরডিএ এবং গণপূর্ত বিভাগের আওতায়।