বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

ক্যাম্পাস ডেস্কঃ সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনরত বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের সামনে এসব দাবি তুলে ধরেন তারা। শিক্ষার্থীরা ১১ অক্টোবর বিকাল পাঁচটার মধ্যে আবরার হত্যার ঘটনায় সিসিটিভিতে শানাক্তদের আজীবনের জন্য বুয়েট থেকে বহিষ্কারসহ মোট ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অস্বস্তিতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাই এ কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হোক। নয়তো বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

তারা বলেন, আবরার হত্যার ৩০ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও ভিসি ঘটনাস্থলে কেন উপস্থিত হয়নি। পরে এলেও আন্দোলনকারীদের অপদস্থ করা হয়। এ জন্য বিকাল ২টার মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা।

দাবি না মানা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা। এ সময় শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।

বক্তারা বলেন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ১১ অক্টোবর বিকাল পাঁচটার মধ্যে সিসিটিভিতে শনাক্তদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা জানান, মামলার সব খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে। মামলাটি দ্রুততম ট্রাইব্যুনালের অধীনে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা করতে হবে।

দাবিতে আরও বলা হয়, র‌্যাগের নামে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

ছাত্ররা আরও দাবি করেন, পূর্বে ঘটা এ ধরনের নির্যাতন ও পরে ঘটা নির্যাতন প্রকাশের জন্য একটি কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হবে। তা রিভিউ করে দ্রুততম বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ সময় সন্ধ্যা সাতটায় মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানান তারা।