বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিনোদন ডেস্ক : হার্টের সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ দেশ বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ছয় বছর ধরে কার্যত গৃহবন্দি বুলবুল। দিনের পর দিন ঘরবন্দি থাকার কারণেই তার হার্টের এমন দুরাবস্থা বলে দাবি করেছেন তিনি। এ জন্য কয়েকদিন আগে রাজধানী শাহবাগের ‘ইব্রাহিম কার্ডিয়াক’ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হয়ে তিনি চার দিন চিকিৎসাও করান।

গতকাল বুধবার নিজের ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের বর্তমান দুরাবস্থার কথা তুলে ধরেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। তার হার্টের চিকিৎসার জন্য বাইপাস সাজারি ছাড়া উপায় নেই বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি।

বুলবুলের এই স্ট্যাটাসটি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সঙ্গে সঙ্গেই বিশিষ্ট এ সঙ্গীতজ্ঞের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। বুধবার রাতেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাইয়ের ফেসবুকে দেয়া পোস্টটি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে এই পোস্ট নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর স্বপ্রণোদিত হয়ে দেশের গুণী এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের খোঁজখবর নেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজে গ্রহণ করেছেন। বুলবুল ভাইয়ের চিকিৎসায় যা যা করণীয় তার সবই তিনি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল শুধু বাংলাদেশের নামকরা সঙ্গীতজ্ঞই নন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও। সরকারি নির্দেশে ২০১২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলখানা গণহত্যার যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষী দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে সংগঠিত সেই গণহত্যায় ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত বেঁচে গিয়েছিলেন তিনিসহ পাঁচজন।

সেই সাক্ষী দেয়ার জেরেই ২০১২ সালে খুন করা হয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছোট ভাই মিরাজকে। খুনের হুমকি দেয়া হয় তাকেও। তারপর থেকেই গত ছয় বছর পুলিশি পাহারায় নিজ বাড়িতে দিন কাটে এই সঙ্গীত বিশারদের। দিনের পর দিন ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে থাকতেই তার হার্টে ব্লক হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। দীর্ঘ ৪৮ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য হিট গানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। তার হাত ধরেই সঙ্গীত জগতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বহু নামকরা শিল্পী।

বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।