বুথে ব্যবহার হবে স্বচ্ছ গ্লাস, খুলতে হবে হিজাব

চুরি ঠেকাতে দেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথে তৈরি করা হবে স্বচ্ছ গ্লাস দিয়ে। আর নারীদের লেনদেনের সময় প্রয়োজনে হিজাব খুলতে হবে। সব বাণিজ্যক ব্যাংককের বুথে নিরাপত্তা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রহককে গোপন নম্বর চাপার সময় নম্বর বোর্ডের উপর অন্য হাত দিয়ে ডেকে রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব বাণিজ্যক ব্যাংককে বুথে নিরাপত্তা বাড়াতে এ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীতে এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড ডিভিশনের প্রধানদের সঙ্গে বুধবার বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, চুরি যাওয়া টাকার পরিমান ২০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের মোট ২৪ বারে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার; সিটি ব্যাংকের ৪ বারে ১ লাখ ৪০ হাজার; ইউসিবিএলের ৭ বারে ১ লাখ ২৬ হাজার এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ বারে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ সময় ওইসব এটিএম বুথে প্রায় ১২০০ এটিএম কার্ড লেনদেন করেছে।

যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা বন্ধ করে নতুন কার্ড ইস্যু করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রহকদের এসব টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে সব বাণিজ্যক ব্যাংককে অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এটিএম কার্ডধারী ৯০ লাখ গ্রহক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও গার্ডদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে তিনি জানান, এটিএম বিষয়ে সার্বিক আলোচনার জন্য এ বৈঠক ডাকা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পালনে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। তারা কি চায় বা আরও কি কি করা দরকার তা খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, সব ব্যাংকের মতামতের ভিত্তিতে ট্রানজেকশন লিমিট নির্ধারণ করা হবে এবং প্রতিটি ট্রানজেকশনের সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রহককে তার তথ্য দিতে হবে। যা অনেক ব্যাংকে চালু নেই। তবে এ জন্য গ্রহকের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ আদায় করার প্রস্তাব এলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাতে এ সার্ভিসে কোন টাকা না নেওয়া হয়। ব্যাংকগুলো এতে একমত হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং এ প্রতিবেদন কবে প্রকাশ করা হবে? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি কয়েকটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে। লিখিত কোন প্রতিবেদন আমাদের নিকট (কেন্দ্রীয় ব্যাংকে) আসেনি। তবে তদন্ত কাজ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে।

এদিকে, এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় চার থেকে পাঁচজন বিদেশি নাগরিক জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সন্দেহজনক ব্যক্তিরা পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে। বিদেশি নাগরিকরা পূর্ব ইউরোপের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার্ড ডিভিশনের হেড অব অল্টারনেটিভ ডেলিভারি চ্যানেল ও রিটেইল বিজনেস ডিভিশনের আবু সাদাত মো. সায়েম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মারুফ রহমান খান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, সব এটিএম বুথে অ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে বুথে কোন মেশিন বসালে সার্ভিস জেম হয়ে যায়। এ ছাড়া সচ্ছ গ্লাস ব্যবহার করতে হবে। যাতে বাহির থেকে গ্রাহকের ট্রানজেকশন কার্যক্রম বোঝা যায়। কাস্টমারদের সচেতনামুলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। কর্মকর্তাদের আরও বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিগত ধারণা থাকতে হবে। গার্ডদের প্রশিক্ষিত হতে হবে।

তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সব কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের তাদের গ্রাহকদের (লেনদেন) নিরাপত্তা তথা নিজের কার্ড নিজে ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছে। দেখা গেছে অনেকে নিজের কার্ড ড্রাইভারকে দিয়ে লেনদেন করাচ্ছে। এটি যাতে না হয় তা লক্ষ্য রাখতে গ্রাহকদের বলা হয়েছে।

বেলা সোয়া ৩টায় মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল পাঁচটায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, গভর্নর সচিবালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজদ ও অনান্য কর্মকর্তা।

এদিকে এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় এক বিদেশি নাগরিকসহ ৩ জনকে শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা।