বিশ্বকাপের আগে রাজনীতিতে আসছেন না মাশরাফি-সাকিব: কাদের

নিজস্ব সংবাদদাতা : জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই তারকা মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা ও সাকিব আল হাসান ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আগে রাজনীতিতে আসছেন না, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

৭ জুন ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি নির্ধারণ এবং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, স্বল্পন্নোত দেশ থেকে উন্নত দেশ, অস্ট্রেলিয়ায় ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ও ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণ-সংবর্ধণার কর্মসূচি ঠিক করতে এ সভার আয়োজন করা হয়।

মাশরাফি ও সাকিবের ভোটে অংশ নেয়ার বিষয়ে গত ২৯ মে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গণমাধ্যমকর্মীদেরকে যে তথ্য দিয়েছেন তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। তিনি সেদিন মাশরাফির হয়ে ভোট চেয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, ভোটে অংশ নিতে পরেন সাকিবও।

আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে বা আগামী জানুয়ারিতে। আর ৩০ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডে হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এর আগের সময়টায় যখন প্রস্তুতিতে থাকবেন ক্রিকেটাররা, তখন তাদের পক্ষে ভোটের লড়াইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ কোথায়, প্রশ্ন ছিল পরিকল্পনা মন্ত্রীর কাছে। তিনি সেদিন বলেন, এতে কোনো সমস্যা তিনি দেখেন না।

তবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী বিশ্বকাপের আগে সাকিব-মাশরাফি রাজনীতিতে আসবেন না। সাকিবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, বিশ্বকাপের আগে রাজনীতি নিয়ে তাঁর (সাকিব আল হাসান) কোনো চিন্তাভাবনা নেই।’

‘তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে নিয়ে কিছু চমক থাকবে, সেটা এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয় নাই। সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ক্ষেত্রে, মিড়িয়া ব্যক্তিত্ব এ ধরণের কিছু্ থাকবে। যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন তাকে উইনেবল প্রার্থী হতে হবে।’

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের প্রায় তিন সপ্তাহেও কমিটি ঘোষণা না করার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের যাতে ভালো কমিটি হয়, এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিজেই তদন্ত করছেন।’

‘খুব ‍শিগগিরই ছাত্রলীগের কমিটি প্রকাশ করতে পারব বলে আশা করছি, তবে দিনক্ষণ বলতে পারবো না। ছাত্রলীগের ভালো কমিটি আসবে, সবার প্রশংসা করার মতোই কমিটি আসবে।’

গাজীপুর সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আচরণবিধি মেনেই আমরা প্রচার-প্রচারণা করব।’

রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনের আগ্রহী প্রার্থীদের কাছে ১৮ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা নেয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।


২২ জুন সন্ধ্যা সাতটায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে বলেও জানান কাদের।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।