বিরিয়ানির প্যাকেট নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের দুই পক্ষ এবার বিরিয়ানির প্যাকেটের জন্য সংঘর্ষে জড়িয়েছে । আজ দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে দুই ছাত্রলীগ কর্মী।


আহত দুই ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান আহমেদ ও মো. নুরতজা। তারা উভয়ই কলেজে পদবঞ্চিত গ্রুপের কর্মী।সংঘর্ষের পর থেকে কলেজে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সকাল থেকে কলেজ মাঠে (প্যারেড মাঠ) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা (বিরিয়ানি) করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও খাবারের প্যাকেট দেয়া হয়। কিন্তু পদবঞ্চিতদের ৫০ প্যাকেট খাবার দিলে তারা অসন্তুষ্ট হয়।


পরে তারা ২০০ প্যাকেট খাবারের দাবিতে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। সেখানে উপস্থিত অধ্যক্ষ মো. আবুল হোসেন ও অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তারা। খবর পেয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম ও সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজও নেতাকর্মীদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এরপর দুই পক্ষ সেখানে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসান বলেন, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ আমার কক্ষে এসে বাড়তি খাবারের দাবি করে তর্ক শুরু করে। পরে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে কক্ষের ভেতর মারামারিতে লিপ্ত হয়। তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। পরে পুলিশকে খবর দেই।


সংঘর্ষের বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার খবর পেয়ে সেখানে যাই এবং প্রতিবাদ করি। পদবঞ্চিতদের নেতা ওবাইদুল হক বলেন, আমরা অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে গেছিলাম। কিন্তু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এর বিচার চাই।

এদিকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর কলেজটিতে কমিটি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে অন্তত ১০ বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বর্তমানে কলেজে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি পদবঞ্চিতদের নিয়ে তিনটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।

Courtesy : Bangladesh Today