বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশীর মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে

ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০১৮ : নেপালে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশীর মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। কাঠমান্ডু থেকে মরদেহগুলো নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি কার্গো বিমান গতকাল বিকেল চারটায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী শাজাহান কামাল মরদেহগুলো গ্রহণ করেন।
গত সোমবার কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার একটি বিমান বিধ্বস্ত হলে ২৬ বাংলাদেশী, ২২ নেপালি, ১ জন চীনাসহ ৪৯ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশীর মরদেহ শনাক্ত করা গেছে।
সনাক্ত করা যে ২৩ জনের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে তারা হলেন- ফয়সল আহমেদ, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আক্তারা বেগম, নাজিয়া আফরিন চৌধুরী, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, আখি মণি, মিনহাজ বিন নাসির, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, তার দুই বছর বয়সী কন্যা তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানবিন শশী রেজা, বেগম উম্মে সালমা, নুরুজ্জামান, রফিক উজ জামান, তার স্ত্রী সানজিদা হক এবং তাদের ছয় বছরের পুত্র অনিরুদ্ধ জামান। যে চারজন বিমান ক্রুর মৃতদেহ আনা হয়েছে তারা হলেন- পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশীদ, এবং ফ্লাইট এটেনডেন্টস খাজা হোসেন মোহাম্মদ শাফি ও শারমিন আক্তার নাবিলা।
নিহতর অপর তিন বাংলাদেশী আফিফুজ্জামান, পিয়াস রায় ও নজরুল ইসলামের মরদেহ সনাক্ত করা যায়নি। সব প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তাদের মরদেহ ডিএনএর মাধ্যমে সনাক্তকরা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জানান।
পরে মরদেহগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আত্মীয়-স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার সকালে নেপালের কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিহত ২৩ জনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বিমান দুর্ঘটনায় যে ১০ বাংলাদেশী প্রাণে বেঁচে গেছেন, তাদের মধ্যে গতকাল ২৩ লাশ বহনকারী বিমানে করে ফেরেন আহত কবির হোসেন। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। আহত অপর ছয়জন শাহরিন আহমেদ, মেহেদি হাসান, সাদিয়া কামরুন নাহান স্বর্ণা, আলিমুন নাহান অ্যানি, শেখ রাশেদ রুবায়েত এবং শাহীন ব্যাপারী ইতিমধ্যে দেশে ফিরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে গুরুত্বর আহত ইমরানা কবির হাসি এবং রেজোয়ানুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে আর ইয়াকুব আলী এখন কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন আছেন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়দিল্লীতে স্থানান্তরের চেষ্টা চলছে বলে জানালেন ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক।