বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সব বিভাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শনিবার বিকালে গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশের তারিখ ও ভেন্যু পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এই সমাবেশ ছাড়াও আরও নানা কর্মসূচি পালন করা হবে জানালেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। সহসাই এসব কর্মসূচির কথা দলের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করবে বিএনপি।

বিকাল সাড়ে চারটার দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন চলবে।’

গত ৮ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচবছরের সাজা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। রায়ের পর থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এরপর থেকে দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। সবশেষ লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির খুলনায় ১০ মার্চ এবং ঢাকায় ১২ মার্চ সমাব্শে করার তারিখ নির্ধারণ করেছে দলটি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারবে না জেনেই মিথ্যে মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে সরকার।’

বৈঠকে উপস্থিত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সবার মতামত শুনেছেন শীর্ষ নেতারা। নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন কর্মসূচি কিভাবে আরও বেগবান করা যায় সে ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন নেতারা।’

কোন ধরনের কর্মসূচির বিষয়ে মতামত এসেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই নেতা বলেন, ‘বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করা হবে। এর বাইরে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিকে আরো বেগবান করা, মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করা, আবারো কালো পতাকা মিছিলের বিষয়েও কথা বলেছেন কেউ কেউ। এসব মতামতের উপর ভিত্তি করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দ্রুত সাংবাদিকদের জানাবেন।’

বৈঠকে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব ও চলমান কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রীর জামিন না হওয়ায় নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে নেত্রী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।’

খুলনার জনসভায় খালেদা জিয়ার সাজা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য জালিয়াতি একটা কাগজের ওপর ভিত্তি করে শুধুমাত্র রাজনীতি থেকে দূরে সরানো জন্য, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য তাকে সাজা দিয়েছেন।’

‘তারা জানেন যে, তাদের পক্ষে কখনো একটা সুষ্ঠু নির্বাচন তাদের পক্ষে নেয়া সম্ভব হবে না। সেজন্য এটা (সাজা) দিয়েছেন।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকৃ, শাহজাহান ওমর, বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর নাসির, রুহুল আলম চৌধুরী, আমিনুল হক, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে উকিল আবদুস সাত্তার, এজে মোজাম্মদ আলী, লুৎফর রহমান খান আজাদ, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, মনিরুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মাহবুবুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদিন ভিপি, আবদুর রশিদ, জিয়াউর রহমান খান, তাজমেরী ইসলাম, সাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, আবদুল হাই, কবীর মুরাদ, ফজলুল রহমান, আতাউর রহমান ঢালী, সিরাজুল ইসলাম, সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল কাইয়ুম, বিজন কান্তি সরকার, তৈমুর আলম খন্দকার, মান্নান তালুকদার, আব্দুল বায়েস ভুঁইয়া, ময়নুল ইসলাম শান্ত, মোহাম্মদ শাহজাদা মিয়া, এস এম ফজলুল হক, আবদুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, ফরহাদ হালিম ডোনার, মুক্তাদির হোসেন, শামসুল আলম, আবদুল হাই শিকদারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী ও সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Inline
Inline