‘বিনামূল্যের বইয়ে শিক্ষার প্রতি ছেলে-মেয়েদের ঝোঁক বেড়েছে’

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বিনা টাকায় বই বিতরণের কারণে শিক্ষার প্রতি ছেলে-মেয়েদর ঝোঁক বেড়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি কেউ যদি পিএইচডি ডিগ্রি নিতে চায় তাহলে সেখানেও বৃত্তির ব্যবস্থা আছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। দরিদ্র মেধাবীরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।

আজ (সোমবার) সকালে গণভবনে জেএসসি এবং পিইসি পরীক্ষার ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়ার পর তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর হাতে পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। এর পর ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেটও দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানগণ নিজ নিজ বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেন। এর পর প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে কম্পিউটারের মাউস চেপে ফলাফল প্রকাশ করেন।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান পৃথক ভাবে দুই সেট বই প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলেদেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে বই বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরীর ও মেধাবীদের দেশে ও দেশের বাইরে বিদেশে ও আমরা এ শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছি এবং শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি অগ্রসর হতে পারে না। সে কথা চিন্তা করেই আমরা এসব পদক্ষেপ নিয়েছি। অনেকে পিসি এবং জেএসসি পরীক্ষার বিপক্ষে। কিন্তু আমি জানি এই পরীক্ষা হওয়ার ফলে ছোট ছোট বাচ্চাদের মনে একটা আত্মবিশ্বাস জেগে ওঠছে। প্রাথমিকে একটা রেজাল্ট এর পরে তারা আরও বেশি পড়াশোনায় মনোযোগী হবে। এবং অষ্টম শ্রেণিতেও উঠে এ পড়াশোনা একটা গতি সৃষ্টি করবে। অনেকে তো উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে না। তো কোনো কারণে যদি কারো পড়াশোনা থেমে যায় তাহলে এই সার্টিফিকেটই কাজে লাগবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে পাসের হার ৪০ থেকে ৫০ ভাগের বেশি ওঠতো না। এবার আমাদের পাসের হার ৮৫ ভাগ। আমি মনে করি এই পাশের হার আর বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষকরা গুরুত্ব দিলে ছেলেমেয়েরা আরও ভালো ফলাফল করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সংবিধানেও শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। একমাত্র শিক্ষাই পারে একটা দেশকে সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত করতে। তাই আমরা শিক্ষাকে সব সময় গুরুত্ব দিচ্ছি। আর এই শিক্ষা আধুনিক জ্ঞান ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসম্পন্ন হতে হবে। বিজ্ঞান পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে আমি ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। অনেকে কম্পিউটার শিখতো না। তাছাড়া কম্পিউটারের দাম অতিরিক্ত ছিল। কম্পিউটারের ব্যবহার ছিল না আমরা কম্পিউটার আমদানির উপর ট্যাক্স কমিয়ে দিলাম কম্পিউটার শিক্ষার কারণে এখন অনেকেই কম্পিউটার শিখতে আগ্রহী হয়েছে এখন দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখন অনেক স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম আছে। আমরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের ব্যবস্থা করব। আমাদের আধুনিক জ্ঞান সম্পন্ন বিজ্ঞান প্রযুক্তি মনস্ক একটা জাতি গড়ে তুলতে হবে। একটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠী পারে দেশকে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি করতে চাই। ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা স্বীকৃতি পেয়েছি। আমাদের গ্রাজুয়েশন হয়ে গেছে। কিন্তু সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব । আমরা দেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব। যেন বাংলাদেশ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধশালী হয়। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে সে পরিকল্পনাও নিয়েছি আমরা।