বিদ্রোহীদের উত্তেজনার মধ্যে ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা ফখরুলের

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির বিদ্রোহী অংশের উত্তেজনার মধ্যে পড়েছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে এর মধ্যেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে অন্য পথে এলাকা ছাড়েন তিনি।

আজ শুক্রবার ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে জেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান তিনি।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মির্জা ফখরুল আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে মির্জা ফখরুলের টাঙ্গাইল আসা নিয়ে সন্তোষে জেলা বিএনপির বর্তমান ও পুরনো কমিটির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতাদের নিয়ে মির্জা ফখরুল ভাসানীর সমাধিতে গেলেও বিদ্রোহী অংশের নেতাকর্মীদের সেখানে যেতে বাধা দেয় পুলিশ।

এরপর বিদ্রোহী পক্ষ ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নেন। মির্জা ফখরুল ভাসানীর কবরে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়ার পর তাকে নিয়ে জেলা বিএনপির নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে যান।

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া এমনকি বিএনপির নেতাদের দূরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে সরকার। কিন্তু জনগণ সে নির্বাচন মেনে নেবে না। বিএনপির চায় সবার সমান সুযোগের নির্বাচন। তাই আগামী দিনে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সেই নির্বাচন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রস্তাবিত সহায়ক সরকারের দাবি না মানলে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে বলে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপির দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী সহায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে।

এ সময় তিনি বর্তমান সরকারকে দখলদার, নির্যাতনকারী, হত্যাকারী, জালেম সরকার হিসেবে অভিহিত করেন। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই জালিম সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জুলুমবাজ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা।
এদিকে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষকী উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে।

সকালে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আলাউদ্দিন প্রথম ভাসানীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

ভাসানীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, মওলানা ভাসানীর মতো মানুষকে আমাদের দেশে আজ যে সম্মান পাওয়ার কথা তার কিছুই তিনি পান না।

মজলুম জননেতার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল কোরআনখানি, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, কাঙালিভোজ, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী।