বিকালে রেলের দুই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন হাসিনা-মোদি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন এবং আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে আজ। সোমবার বিকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আখাউড়া-আগরতলা রেল প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের ৩নং প্লাটফর্মে একটি বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধন উপলক্ষে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। কুলাউড়া–শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন যোগাযোগ পুনঃস্থাপন হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। এতে বিদ্যমান মিটার গেজ এমব্যাংকমেন্ট সংস্কারসহ প্রায় ৫৩ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেল লাইন, সেতু ও কালভার্ট, স্টেশন অবকাঠামো নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পূর্ত কাজ সম্পাদন এবং নন-ইন্টারলকড কালার লাইট সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপিত হবে।

প্রকল্প ব্যয় ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় নমনীয় ঋণ (এলওসি) ৫৫৫ কোটি ৯৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সরকার বাকি ১২২ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার টাকা সরবরাহ করবে।

কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশনটি ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর মিটার গেজ লাইন হিসেবে চালু হওয়ার পর বাজেট স্বল্পতার কারণে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় গত ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ ঘোষিত হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভারতের কালিন্দি রেল নির্মাণ। চুক্তির মেয়াদ কাজ শুরুর তারিখ থেকে ২৪ মাস।

অপর প্রকল্প, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল সংযোগ (বাংলাদেশ অংশ) নির্মাণ। এমব্যাংকমেন্টসহ প্রায় ১০ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। এতে সেতু (কালভার্ট), প্যাসেঞ্জার প্লাটফর্ম, প্লাটফর্ম শেড, কাস্টমস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন ভবন, পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ করা হবে। চুক্তি মূল্য ২৪০ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫০১ টাকা। চুক্তির মেয়াদ কাজ শুরুর তারিখ থেকে ১৮ মাস। ভারত সরকারের অনুদানে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।