বিএনপি হচ্ছে ইডিয়ট পার্টি, বোকাদের দল: মুহিত

বিএনপিকে বোকাদের দল বলেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার মতো ‘বোকামো’ দলটি আর করবে না বলেও আশা করেন তিনি।

রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০১৭ সালের মূল্যায়ন এবং ২০১৮ সালের প্রত্যাশা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা, জাতীয় নির্বাচন, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেন। আর কথা প্রসঙ্গে ‍উঠে আসে বিএনপির কথা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনেও ২০১৪ সালের মতো ঘটনার পুনারাবৃত্তি হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এক তরফা তো আমরা করিনি। একটা ইডিয়ট পার্টি (বিএনপি) করেছে, টোটালি ইডিয়ট পার্টি। লেড বাই ইডিয়টস।’

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকাকে বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা তুলে ধরে মুহিত বলেন, গত নির্বাচনের আগে বিএনপিকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মুহিত বলেন, ‘আমরা তাদের ইনভাইট করলাম যে, আস। তত্ত্বাবধায়কের মতো, দে ওয়ার ইনভাইটেড টু কাম অ্যান্ড জয়েন। দে ফেইলড টু টেক ইট।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আর ‘ভুল’ করবে না বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘এবার করবে না। এবার যদি করে, দ্যাট উইল বি স্কেয়ার ফর এ পলিটিক্যাল পার্টি।’

‘সো আই ক্যান গ্যারান্টি, এবার ইলেকশন হবেই, পার্টিসিপেটরি’।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে সবাই অংশ নেবে এবং উন্নয়নের সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ জিতবে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনে মুহিতের আসন সিলেট-১ থেকে তার ভাই এ কে এ মোমেন প্রার্থী হতে পারেন বলেও জানান মুহিত। তবে দল চাইলে তিনিও প্রার্থী হবেন।

অর্থনীতির জন্য ২০১৮ সাল ভালো যাবে এবং এটি একটি স্বস্তির বছর হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জানান, সরকারের শেষ বছরে নতুন করে করের বোঝা দেয়া হবে না। ফলে আগামী বাজেট হবে গতানুগতিক।
নতুন বছরে ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট হবে কি না– এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে কোনো ঝুঁকি নেই। ব্যাংক ফেল করার কোনো চান্স নেই। সুতরাং আস্থার সংকট হবে না।’

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই (৩০ জুন) ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারিতে কয়েকটি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন হয়েছে। আর হবে…। তবে মার্জার (একীভূত) সেটা বোধ হয় করা যাবে না।”

২০১৭ সালে কোনো সহিংস হরতাল না হওয়ায় মানুষের স্বস্তি উচ্চ মাত্রায় উঠে এসেছে বলেও মনে করেন মুহিত। বলেন মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা এখন খুবই ভালো।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য একটি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে বিদেশি, সরকার-বেসরকারি ভাবে সাহায্য করা হচ্ছে। তাদের (রোহিঙ্গা) টাকা দিতে হবে। দাতাদের কাছে সাহায্য চাচ্ছি, দেখি কী আসে।

‘মিয়ানমার বলেছে-তারা কিছু লোক নেবে। নেওয়ার মধ্যে নানা কথা-বার্তা আছে, কিছু হিন্দু নেবে। এসময় রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানে রাখাইনে স্বতন্ত্র রোহিঙ্গা জোন করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।’

চালের দাম নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘এটা ব্যবসায়ীদের কারণে হয়েছে, এটা হওয়া উচিত না। আমরা চেয়েছিলাম চালের দাম একটু বাড়ুক। যেনো কৃষক দাম কিছুটা বেশি পায়।’

‘৩৮ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা সেটা ৬০ পর্যন্ত নিয়ে গেছে।’

চালের দাম শিগগিরই নেমে আসবে বলেও আশা করছেন মুহিত।

সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের চাকরির বয়স ৬২ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ‘হ্যাঁ আমি চিঠি দিয়েছি। এখনো কোনো সিগন্যাল পাইনি। বর্তমানে মানুষের জীবনসীমা ৭১ বছর। ১৯৭২ সালের জীবনসীমা ছিল মাত্র ৪৮ বছর। তখন বঙ্গবন্ধু ৫৮ করেছিলেন।’