বিএনপির ‘হাসপাতাল বৈরী’ অবস্থান জানালেন সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেয়া বেশ কিছু হাসপাতাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্প বাতিল করে দেয়। আবার বেশ কিছু প্রকল্প বাতিলের চেষ্টাও করা হয়।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও সেন্টার অব এক্সিলেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যযন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম এই তথ্য জানান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে চালু করা সাড়ে ছয় হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। কিন্তু বিএনপি এসে সেগুলো বন্ধ করে দেয়। আর আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে সেগুলো চালু করার পাশাপাশি ১৫ হাজার হাসপাতাল চালু হয়।

বিএনপির কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধের বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেলিম জানান, বন্ধ করে দেয়া প্রকল্প আরও ছিল।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- ২ নির্মাণের কাজও বিএনপি বন্ধ করে দেয়। ২০ শয্যার বার্ন ইউনিট ১০০ শয্যা করেছিল আওয়ামী লীগ। এ জন্য যন্ত্রপাতি ও লোকবলও নেয়া হয়। কিন্তু বিএনপি এসে তা বাতিল করে।

খুলনায় শেখ মনি হাসপাতালও বন্ধ করার পাশাপাশি ওই হাসপাতালের জায়গাও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে বরাদ্দ দিয়ে দেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সেবা দেয়ার জন্য এ হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

একইভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল- ২ এর নির্মাণ কাজ।

১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল স্থাপন করা দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় বিএসএসএমইউও বিএনপি বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সে চেষ্টায় তারা সফল হয়নি।

এ রকম আরও বেশ কিছু উদ্যোগ বিএনপি বাতিল করে জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘এভাবে দেশের স্বাস্থ্যসেবা তারা ধ্বংস করে দিয়েছিল। দেশে কোন স্বাস্থ্য নীতি ছিল না। স্বাস্থ সেবা মানুষের দোরগোড়া থেকে দূরে যেতে শুরু করেছিল। স্বাস্থ্য সেবা দলীয়করণ করেছিল তারা। একটা অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছিল স্বাস্থ্য সেবায়।’

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি হতে থাকে জানিয়ে সেলিম বলেন, ‘এ দেশের স্বাস্থ্যখাতে যে উন্নতি হয়েছে তার সবই আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে।’

‘কারণ, আওয়ামী লীগের এ দেশের জনগণের জন্য দরদ আছে। আজ আমাদের ওষুধ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই ধারা অব্যহত থাকলে আশা করি আগামী ১০ বছর পর চিকিৎসার জন্য কোনও লোক বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাবে না, বিদেশিরা আসবে এ দেশে স্বাস্থসেবা নিতে।’

Inline
Inline