বিএনপির সমাবেশ এক দিন পিছিয়ে রবিবার

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের স্মরণে রাজধানীতে সমাবেশ আবারও এক দিন পিছিয়ে আগামী রবিবার করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। সেদিন তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে বলে আশা করছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সমাবেশ শনিবারের পরিবর্তে রবিবার করবো। আশা করি সরকার আমাদের সমাবেশের অনুমতি দিয়ে সহযোগিতা করবে।’

৪২ বছর আগে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান পাল্টা অভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সৈনিক এবং সাধারণ জনগণকে নিয়ে বিপ্লব করার চেষ্টা করে জাসদ। আর সেনাবাহিনীর একাংশের হাতে বন্দী জিয়াউর রহমানকেও মুক্ত করে তারা। কিন্তু এই চেষ্টার নিয়ন্ত্রণ পরে জাসদের হাতছাড়া হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসেন জিয়াউর রহমান।

এই দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে বিএনপি। দলটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে এদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এই ছুটি বাতিল করা হয়। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস হিসেবে।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গত কয়েক বছরে বিএনপিকে এই দিন সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি। চলতি বছরও দিনটির স্মরণে ৮ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু একই সময়ে আরও একটি সংগঠন সেখানে সমাবেশ করতে চেয়েছে জানিয়ে কাউকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ।

এরপর বিএনপি সমাবেশ পিছিয়ে শনিবার করার ঘোষণা দেয় এবং নতুন করে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু পুলিশ এখনও এ বিষয়ে বিএনপিকে কিছু জানায়নি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সমাবেশ আরও একদিন পেছাতে চায়।

সমাবেশ পেছানোর কারণ না জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি রবিবার সমাবেশ করবো। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সরকার সিপিএ সম্মেলনের দোহাই দিয়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন ফখরুল। (আরও আসছে…)