বিএনপির জনপ্রিয়তার প্রমাণ হয়েছে রংপুরে: মির্জা ফখরুল

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি তৃতীয় হলেও দলটির জনপ্রিয়তার প্রমাণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সেখানে বিএনপির ভোট বেড়েছে। কিন্তু কমেছে আওয়ামী লীগের।

ভোটের দুই দিন পর ঠাকুরগাঁও শহরে সদর উপজেলা বিএনপির বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ফখরুল। তার দাবি, আওয়ামী লীগের যে কোনো জনপ্রিয়তা নেই সেটি রংপুরের ভোটেই প্রমাণ হয়েছে। তারা সেখানে বড় ব্যবধানে হেরেছে।

বৃহস্পতিবার রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা তৃতীয় হয়েছেন ৩৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট পেয়ে। সেখানে এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে জিতেছেন জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আওয়ামী লীগর সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টুর ভোটও বিএনপির চেয়ে প্রায় ২৭ হাজার বেশি। তিনি পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।

বিএনপির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, ভোটকেন্দ্র দখল করে সিল মেরে তাদের প্রার্থীকে হারানো হয়েছে।

তবে রিজভীর অভিযোগের সঙ্গে ফখরুল যে একমত নন, সেটি শুক্রবারই জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

আবার বিএনপিতে দুই নেতার দুই বক্তব্যে দলের ভেতরে বিভক্তির প্রমাণ হিসেবে দেখেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ও রিজভীর একজন খালেদা জিয়ার এবং একজন তারেক রহমানের বলয়ের হিসেবে পরিচিত। আর নির্বাচন নিয়ে তাদের দুই অবস্থান এ কারণেই হয়েছে।

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির তৃতীয় হওয়াটা দলের জন্য একটি সংকেত বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য এটা দলটির জন্য একটা শিক্ষা।

তবে কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেছেন, বিএনপিতে কোনো কোন্দল নেই। তার দল একজোট আছে।

‘বিএনপিতে কোন মতানৈক্য নেই। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ইউনাইটেড রয়েছে।’

রংপুরের নির্বাচন বিএনপির জন্য নয়, আওয়ামী লীগের জন্যই সতর্ক সংকেত বলে মনে করেন ফখরুল। বলেন, সেখানে বিএনপি নয়, ভরাডুবি হয়েছে আওয়ামী লীগের।

ফখরুল বলেন, ‘রংপুর বরাবরই সাংগঠনিক ভাবে বিএনপির জন্য দুর্বল জায়গা। কিন্তু এ নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে পূর্বের থেকে বিএনপির ভোট সেখানে অনেক বেড়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভরাডুবিতে প্রমাণ হয়েছে যে, জনগণ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

জাতীয় পার্টির সবচেয়ে শক্তিশালী এলাকা রংপুর সিটিতে ২০১২ সালে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু জাতীয় পার্টির তিন নেতার ভোটে লড়াইয়ের সুযোগে জিতে গিয়েছিলেন। তখন ঝণ্টু ভোট পেয়েছিলেন এক লাখ ছয় হাজার ২২৫টি। কিন্তু পাঁচ বছর পর দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে তার ভোট কমেছে প্রায় ৪৪ হাজার।

ওই নির্বাচনে বিএনপির কাওসার জামান বাবলা ভোট পেয়েছিলেন ২১ হাজার ২৩৫ ভোট। এবার ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট। অর্থাৎ তার ভোট বেড়েছে প্রায় ১৪ হাজার।

ফখরুল মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর ভোট কমা আর বিএনপির প্রার্থীর ভোট বাড়াতে প্রমাণ হয় জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা কমেছে, আর বিএনপির বেড়েছে।

এর আগে বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন ফখরুল। সেখানে তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচন পিিরচালনার জন্য নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ঠাকুরগাঁও বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন লাল, সাধারণ সম্পাদ আব্দুল হামিদসহ জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।