বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ভোলায় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ভোলা সংবাদদাতা : ভোলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কাজী, ঈমাম, আনসার-ভিডিপি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ মে) সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিসেফের সহযোগীতায় ও কোস্ট ট্রাস্ট এর বাস্তবায়নে সমন্বিত শিশু বিবাহ প্রতিরোধ কর্মসূচী (আইইসিএম) প্রকল্প এই কর্মশালার আয়োজন করে।
দিনব্যাপী কর্মশালা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেদুরিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব তাজুল ইসলাম। কোস্ট ট্রাস্ট (আইইসিএম) প্রকল্পের সমন্বয়কারী মোঃ মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, ভোলা জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুর রহমান, জেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মীর মোঃ বেলায়েত হোসেন, প্রকল্পের সহকারী সমন্বয়কারী দেবাশিষ মজুমদার, প্রকল্পের এডমিন এন্ড ফাইন্যান্স অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কোস্ট ট্রাস্ট এর উপজেলা ট্রেনিং এন্ড মনিটরিং অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
এসময় ভেদুরিয়া, ভেলুমিয়া, আলীনগর, চরসামাইয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নের কাজি, ইমাম, পুরোহীত, আনসার-ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, সম্মেলিত প্রচেষ্টাই পারে বাল্য বিবাহ মুক্ত সমাজ গড়তে। বাল্যবিয়ে কারও একার পক্ষে বন্ধ করা সম্ভব না। এর জন্য চাই জনসচেতনতা। বাংলাদেশের শতকরা ৬৬ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিয়ের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, বাল্য বিবাহ আমাদের দেশের দীর্ঘ দিনের একটি সামাজিক অভিশাপ। বাল্য বিবাহের অভিশাপে একজন নারীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে দেয় না। একটি সুস্থ জাতি পেতে হলে দরকার একজন শিক্ষিত মা। শিক্ষিত মায়ের দ্বারাই সম্ভব একটি সুস্থ জাতি এবং একটি সুস্থ সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তোলা। কিন্তু বাল্য বিবাহের কারণে আমাদের এই সমাজের বেশির ভাগ মেয়ে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আগামী প্রজন্মও সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠা ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্য বিবাহ বড় একটি বাধা। বাল্য বিবাহ একটি সামাজিক ব্যধি। আমাদের দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে ১৫-১৯ বছর আগেই অর্ধেক নারীর বিয়ে হয়ে যায়। আমাদের জীবনে আধুনিকতা ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও বাল্য বিবাহের প্রবণতা কমেনি।
এসময় বক্তারা আরও বলেন, অনেক কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেয় অভিভাবকরা। এটা রোধ করতে কিশোরী ও নারীদের জীবন, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ক্ষমতা থাকতে হবে। তাই সামাজিক সচেতনতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে বাল্য বিবাহরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ও সল্প বয়সে গর্ভধারণের কুফল সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
ঈমাম, কাজী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

Inline
Inline