বাজেট পোশাক শিল্পবান্ধব নয়: বিজিএমইএ

প্রস্তাবিত বাজেট পোশাক শিল্পবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত প্রস্তাবিত বাজেটকে আমরা পোশাক শিল্পবান্ধব বলতে পারছি না। কারণ, বাজেটে আমাদের প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বাজেট পাস হওয়ার আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা যদি পোশাক শিল্পে উৎসে কর কমানোসহ আমাদের দাবি দাওয়ার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাজেট পাস করেন তাহলে তখনই আমরা এটাকে পোশাক শিল্পবান্ধব বলতে পারবো।’

রবিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে বিজিএমইএ’র সম্মেলনকক্ষে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আগামী দুই বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘পোশাক শিল্পকে বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ইউরোর দরপতন, বেক্সিট এবং গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এ খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ শতাংশ। তাই আগামী দুই বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর প্রত্যাহার করতে হবে।’ এছাড়া এ শিল্পের করপোরেট ট্যাক্স হার ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ করার দাবি জানায় সংগঠনটি।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজস্ব নীতিসহ অন্যান্য সব নীতি কৌশল পাঁচ বছরের জন্য স্থিতিশীল রাখতে হবে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করলেও আশানুরূপ ফল পায়নি। গত ১০ মাসে নতুন বাজারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি মাত্র ১ দশমিক ২১ শতাংশ।’ গত বছর এ প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছিল। এক্ষেত্রে নতুন বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ৫ শতাংশ নগদ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান।

এর আগে বাজেট ঘোষণার দিন প্রেস রিলিজে সংগঠনটি জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও টেকসই পোশাক শিল্প গঠনের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য দিকনির্দেশনা নেই। বিজিএমইএ আশা করেছিল বাজেটে পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ সুসংহত করা ও এই শিল্পের বিকাশে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ পোশাক শিল্পের জন্য প্রণোদনা আকারে সহায়তা দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সহসভাপতি মোহাম্মদ নাসির, এম এ মান্নান কোচি, ফারুক হাসান এবং সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী প্রমুখ।