বাজেট নিয়ে জাপা এমপির ‘উগ্র’ বক্তব্যে নাখোশ মুহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের ‘উগ্র’ বক্তব্যে নাখোশ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, এসব বক্তব্য যথাযথ নয়। কারণ, তাদের দলের মন্ত্রীরাও মন্ত্রিসভায় বসে বাজেট অনুমোদন করেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

গত ৭ জুন আগামী অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। আর রীতি অনুযায়ী গোটা জুন মাসে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্যরা।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য রাখার সময় জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেছেন। আর একজনের বিরুদ্ধে সংসদেই আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তারা বিরোধীদল ঠিক আছে। তবে এটা মনে রাখা উচিত তারা বিরোধীদল হলেও সরকারের অংশ। তাদের দলের কেবিনেট সদস্যরাও প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদন দিয়েছেন। সুতরাং এটা আমার একার বাজেট নয়।’

বিরোধিতার বিষয়ে ব্যাখ্যা করে মুহিত বলেন, ‘আমি অধিকাংশ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলাম। তারা সংসদে এমন আচরণ করেছেন যে, তারা সরকারের কোনো অংশ নয়।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কোন ধরনের পরিবর্তন হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রী নতুন কী পরিবর্তন আনতে পারেন –এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এখনও আমি জানি না। আজকে সন্ধ্যায় জানতে পারব। কারণ সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে বৈঠক আছে।’

‘সংসদে বাজেট প্রস্তাবের পর আগামীকালসহ ১৯ দিন সংসদে এ আলোচনা হবে। এ সময়ে সংসদের বাইরে বিভিন্ন গণমাধ্যম, ব্যবসায়ী সমিতি, বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ফোরামে যেসব মন্তব্য ও পরামর্শ এসেছে সেগুলোর উপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তন, কিছুটা একেবারেই নতুন বিষয় থাকবে সেগুলো আগামীকালকেই জাতীয় সংসদে জানিয়ে দেয়া হবে।’

‘আগামীকাল খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আগামীকাল প্রথমবারের মত প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন। আর জাতীয় সংসদে আগামী ২৮ জুন বাজেট পাস হবে। আর আগামীকাল ২৭ জুন পাস হবে অর্থবিল।’

বাজেট পাসের তারিখ এগিয়ে আনা হলো কেন-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘শনি, রবিবারে আর যেতে চাইনি। ২৮ তারিখে শেষ করে দেব। আমরা ইচ্ছা করলে ৩০ তারিখে বাজেট পাস করতে পরতাম। একদিন হয়তো বাড়ানো যেত। কিন্তু সেটা করা হয়নি।’

অন্য এক প্রশ্নে মুহিত বলেন, বাজেটে পরিবর্তন আসলেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না।

করপোরেট কর হারে পরিবর্তন আসবে না বলেও জনান মন্ত্রী। করমুক্ত ব্যক্তি আয়সীমাও বাড়ছে না-জানিয়ে দিলেন তিনি।

মোবাইল বা ইন্টারনেটে ভ্যাট কমানোর কোনো উদ্যোগ থাকছে কিনা জানতে চাইলে জবাব আসে, ‘মোবাইলে তো আমার প্রস্তাবই অত্যন্ত ভালো। আইসিটির বেশিরভাগ ট্যাক্সই পাঁচ শতাংশ। আর বাকিসব জিরো এই ধরনের। এ বিষয়ে আইসিটিতো খুব সন্তুষ্ট।’

‘তবে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার একটা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আরও কিছু প্রস্তাব ছিলো। এগুলো প্রায়ই আমরা সংশোধন করব। এসব বিষয়ে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার খুবই খুশি। আমরা আশা করছি যে আইসিটিতে আমরা ইয়াং জেনারেশনকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করতে পারব।’

খেলাপি ঋণ নিয়ে ‘কিছু একটা’ করা হবে জুলাইয়ে

এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংক খাত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে এটা থাকুক। এর প্রতিউত্তর আমি যথা সময়ে দেব। এ বিষয়ে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

‘ব্যাংকের বিষয়ে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ সেটা হচ্ছে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া। এ ব্যাপারে কিছু করতে হবে। এ বিষয়ে আগামী জুলাইয়ে একটু কিছু করব।’

তবে ব্যাংকের লুটপাট বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে একমত নন মুহিত। বলেন, ‘লুটপাট মানে হচ্ছে ব্যাংকের সম্পদ ব্যাংকের পরিচালকরা নিয়ে নিচ্ছেন। এমনটি হচ্ছে না। তবে এক্ষেত্রে একটা খারাপ দিক রয়েছে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের সঙ্গে সমঝোতা করে ঋণ নিয়ে নিচ্ছেন।’

‘আমি এক ব্যাংকের পরিচালক হয়ে অন্য ব্যাংক থেকে কিছু কনফ্লিক্ট ইস্যু থাকা সত্ত্বেও ঋণ নিয়ে নিচ্ছি। এসব বিষয়ে আমি আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কিছু একটা করব।’

‘এ বিষয়ে আমার ধারণা আমি মোটামাটি ঠিক করে ফেলেছি। কিন্তু এ বিষয়ে অন্য স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তাই জুলাই পর্যন্ত সময় লাগবে।’

Inline
Inline