বাজেটে যা যা থাকছে

জ্বালানি, বিনিয়োগ ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবনা উপস্থাপন হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (০২ জুন)। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে চলতি বছরের এ বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল আব্দুল মুহিত।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) শতকরা ১৭ দশমিক ৪ ভাগ থাকছে। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা থাকছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বেশি। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। পরে বাজেট সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।

ঘোষণা হতে যাওয়া বিশাল অংকের এই বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। অপরদিকে ৩৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে এনবিআর বহির্ভূত খাত থেকে।

এক্ষেত্রে নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ৩০ শতাংশের বেশি। বিদায়ী অর্থবছরে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে জিডিপির ৫ ভাগ। তবে বরাবরের মতো এবারও অভ্যন্তরীণ উৎস এবং বিদেশি সাহায্য থেকে ঘাটতি মেটানো হবে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থাৎ ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্র থেকে আসবে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি বিদেশি সহায়তা বাবদ পাওয়া যাবে ৩৬ হাজার ২১০ কোটি টাকা।

এই বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। যেখানে বিদায়ী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৭ শতাংশ। পরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জনের হার দেখানো হয়েছে ৭ দশমিক শূণ্য ৫ শতাংশ। যদিও এই প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশে রাখার কথা জানানো হয়েছে প্রস্তাবিত এ বাজেটে। যেখানে গেল বছরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এ বাজেটে ভর্তুকিতে মোট বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৭ ভাগ কম।