বাংলাদেশ-ভারত বৈরিতা মাঠের বাইরে: সাকিব

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) খেলতে এখন ভারতের কলকাতায় রয়েছেন টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ২০১১ সাল থেকে শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলে আসছেন তিনি।

এবারও একই দলের হয়ে খেলবেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে সাকিব আল হাসানের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ দল ও কলকাতা নাইট রাইডার্স দল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। ঢাকাটাইমসের পাঠকদের জন্য এই সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আপনাদের জন্য হতাশার ছিলো। কিন্তু এখান থেকে কী শিখেছেন?

সাকিব: আপনি প্রতিটি ম্যাচ থেকেই শিখেন। আমি বলব না এটি হতাশার ছিলো। হ্যা, আপনি বলতে পারেন আমরা যে ফলাফল আশা করছিলাম সেটা পায়নি। কিন্তু আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা যদি একটি অথবা দুইটি ম্যাচ জিততে পারতাম তাহলে দলের চেহারা ভিন্নরকম হতো। টি-টোয়েন্টিতে ঘনঘনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে এবং সেখান থেকেই আপনি অনেক কিছুই শিখেন।

প্রশ্ন: ২০১৫ সালে দারুণ পারফরম্যান্সের পর আপনাদের নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। আপনি কীভাবে এটি মোকাবেলা করেন?

সাকিব: আপনি যত ভালো করবেন আপনাকে নিয়ে প্রত্যাশাও তত বাড়বে। এটি নেতিবাচক হিসেবে নেয়া উচিৎ নয়। আমাদের মনে করা উচিৎ যে, হয়ত আমাদের সেরকম সামর্থ্য আছে বলেই দর্শকরা আমাদের কাছে এত প্রত্যাশা করে। আমরা এটি ইতিবাচকভাবে নিই।

প্রশ্ন: মাঠে ও মাঠের বাইরে ভারতের সঙ্গে বৈরিতা বাড়ছে। আপনি এটি কীভাবে নেন?

সাকিব: আমি মনে করি মাঠের বাইরেই এটি বেশি। মাঠে উভয় দল জানে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। উভয় দলই তাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করে। আমি মনে করি না যে, খেলোয়াড়রা এর বাইরে চিন্তা করে। দর্শক ও মিডিয়ার কারণে এমনটি হতে পারে।

প্রশ্ন: ব্যাঙ্গালোরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ কয়েক মিনিট আপনার মনের মধ্যে কী হচ্ছিলো তা কি একটু শেয়ার করবেন?

সাকিব: মুশফিক ভাই যখন দুইটি বাউন্ডারি মারার পর আউট হয়ে গেলেন তখন আমার মনে হচ্ছিলো রিয়াদ ভাই যেকোনও মূল্যে সিঙ্গেল নিবেন। তিনি যদি সেটি করতে পারতেন তাহলে শেষ বলটা অন্যরকম হতো। তখন যদি আমরা একটি রান নাও নিতে পারতাম তাহলে ম্যাচটা টাই হতো। এটাই ক্রিকেট।

প্রশ্ন: দুই বছর আগে বোর্ডের সঙ্গে আপনার একটু ঝামেলা হয়েছিলো। আপনি প্রায় ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ওই সিচুয়েশন থেকে আপনি কীভাবে বেরিয়ে এসেছিলেন।

সাকিব: ওই সিচুয়েশন থেকে বের হয়ে আসতে আমার অনেক মানসিক শক্তির দরকার হয়েছিলো। আমি আমার স্ত্রী, বাবা-মা ও বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছিলাম। সেটি যদি না পেতাম তাহলে এখানে আসতে পারতাম না। তারা আমাকে বলেছিলো আমি আবার আমার অবস্থানে ফিরতে পারব।

প্রশ্ন: কী কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) আপনার কাছে স্পেশাল করে তুলেছে?

সাকিব: বড় বিষয় হচ্ছে এটি আমার কাছে হোমের মত মনে হয়। জাতীয় দলের পরে এটিই একমাত্র দল যেখানে আমি এতদিন ধরে খেলছি। আমরা একই ভাষায় কথা বলি। আমাদের সংস্কৃতি ও আবহাওয়া একই। এমনকি ঢাকা থেকে কলকাতার ফ্লাইট মাত্র ৩০ মিনিটের। কিন্তু, ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে খেলোয়াড়দের কলকাতায় আসতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। একটি বেড়ার কারণেই এখানে আমাকে বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হবে। আমি যদি বাইরে যাই তাহলে লোকজন আমাকে তাদের মনে করে সেভাবে ব্যবহার করে। আপনি এখানে যে আন্তরিকতা পান তা চমৎকার।

প্রশ্ন: কেকেআর এমন একটি দল যাতে সুপারস্টার নেই। আপনি কি মনে করেন এই ফর্মুলা এখনও কাজ করবে?

সাকিব: আমাদের কোনও সুপারস্টার নেই। কিন্তু সবাই দলের একজন সদস্য। এটিই আমাদের শক্তি। সবাই দলকে তার শতভাগ দেয়। এটিই আমরা সবার কাছ থেকে প্রত্যাশা করি।

প্রশ্ন: সাত নম্বরে ব্যাট করে কি আপনি খুশি?

সাকিব: দল আমাকে যেখানে ব্যাটিং করানোর প্রয়োজন মনে করে আমি সেখানেই আমি খুশি। যতদূর সম্ভব আমি দলে অবদান রাখার চেষ্টা করি। আর এটি এমন নয় যে আমি সব ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাট করি। পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাকে চার নম্বরেও ব্যাটিং করতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমি এটি নিয়ে চিন্তা করি না।

প্রশ্ন: পিচ নিয়ে অনেক কথা বলা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন ইডেন গার্ডেনের পিচ স্লোয়ার হবে?

সাকিব: ভালো দিক হচ্ছে ১৩ এপ্রিলের পর এখানকার পিচ (নির্বাচনের কারণে) কিছুদিন বিরতি পাবে। অন্যথায়, আমি মনে করি না যে এটি খারাপ হবে। আমরা এখানে একটি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি। পিচটি ভালো ছিলো, ব্যাটসম্যানদের জন্য সহায়ক। বলও কিছুটা টার্ন পাচ্ছিলো।

প্রশ্ন: নারিনের বোলিং সন্দেহমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন দল কতটা আত্মবিশ্বাসী?

সাকিব: তার সাথে আমি সবসময় কথা বলি। বিশেষ করে, যখন আমরা ডাগআউটে বসে থাকি তখন দলের অবস্থা সম্পর্কে কথা বলি। আমাদের দলের দুইটি শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে তার বড় অবদান ছিলো। তাঁর উপস্থিতি দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সে সম্ভবত সেরা স্পিনার। সেটিই আমাদের জন্য বড় সুবিধা।

প্রশ্ন: দলে আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কে?

সাকিব: নারিন ও আন্দ্রে রাসেল। সবাই আমার বন্ধু। কিন্তু আপনি যদি আমাকে বেছে নিতে বলেন তাহলে আমি বলব, সম্ভবত এই দুইজনের সঙ্গেই একটু বেশি কথা বলি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কাছে কি ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা বেশি জনপ্রিয়?

সাকিব: এটি তাদের বন্ধুভাবাপন্নতা। আমি যদি তাদের কাছে না যাই তাহলে তারা আমার কাছে আসবে। এটিই বড় সম্পর্কের সূচনা করে।