বাংলাদেশ ব্যাংক ‘টাকা জাদুঘরের’ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংক ‘টাকা জাদুঘরে’র চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক একাডেমিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ‘টাকা জাদুঘর’ পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

শনিবার মিরপুরে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। এ সময় মুদ্রার ইতিহাস, বিভিন্ন যুগের কাগজি নোট, ধাতব মুদ্রা, শাসনামল, মুদ্রার পরিবর্তন নিয়ে প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড.আতিউর রহমানই মূলত স্বপ্নদ্রষ্টা টাকা জাদুঘরের। তিনিই উদ্যোগ নিয়েছিলেন আলাদা করে একটি সুন্দর টাকা জাদুঘর করার। সেই টাকা জাদুঘর আজ বর্তমান অবস্থায় এসেছে।’

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মুদ্রার মান কমেছে কি বেড়েছে তা বলতে গেলে অনেক বিষয় চলে আসে। এক সময় তিন টাকায় ১ কেজি খাসির মাংস পাওয়া যেত, এখন ৭০০ টাকায় এক কেজি খাসির মাংস পাওয়া যায়। আমরা এখন ছোট নোট বা ধাতব মুদ্রা ব্যবহারে অনিচ্ছুক। অথচ বাইরের উন্নত দেশগুলোতে খুব ভালো ভাবেই ধাতবমুদ্রা ব্যবহার হচ্ছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘দেশে নোট প্রচলন করতে বিধান অনু্যায়ী ১৯৭৩ সালে ৪০ কোটি টাকার গোল্ড কেনা হয়েছিল। এখন অনেক কিছু সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে। আগের অনেক নিয়মও বদলেছে।’

ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘আমরা মুদ্রা ব্যবহার থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। অথচ অনেক উন্নত দেশে আইন করে মুদ্রার প্রচলন রাখা হয়েছে। আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার মুদ্রা রয়েছে কিন্তু তার ব্যবহার হচ্ছে না। আমাদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ মুদ্রাগুলো তৈরিতে অনেক শ্রম ও খরচ দিতে হয়েছে। মুদ্রার স্থায়িত্বও অনেক। প্রয়োজনে রাষ্ট্র এ ব্যাপারে তাগিদ করতে পারে।’

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা বলেন, ‘জাদুঘরের সম্প্রসারণ কাজ হচ্ছে। মুদ্রা গবেষণার জন্য ল্যাবরেটরি ও গ্যালারি তৈরি করা হচ্ছে। মুদ্রা দাতাদের জন্য বিশেষ প্রদর্শণীর ব্যবস্থার জন্য আলাদা গ্যালারি, চিত্র প্রদর্শনীর জন্য গ্যালারি, একটি সিনেপ্লেক্স ও একটি বড় আকারে সেমিনার হল তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া টাকার উপরে একটি বিশেষ ডকুমেন্টরি তৈরির কাজ শেষের পথে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মুদ্রার জন্য নতুন মনোগ্রাম তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যের কিছু স্বারক মুদ্রাও তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আশার কথা শুনিয়ে বলেন, ‘টাকা জাদুঘরে প্রতিদিন চারশতাধিক দর্শণার্থী আসেন। আমরা মুদ্রার উপর উচ্চতর গবেষণার জন্য একটি নির্দিষ্ট আকারে বাজেট রাখবো।’

যারা ইন্টার্নি করতে চান তাদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করা ছাড়াও ডোনারদের নামের তালিকা করে জাদুঘরে নাম ফলক রাখার কথা জানান তিনি।

টাকা জাদুঘরের চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শাহ নাওয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সানিয়া সিতারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির ব্ক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. সুলতান মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘টাকা জাদুঘর শুধু প্রদর্শন নয় এখান থেকে ইতিহাস, শাসনকাল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয় জানা যায়। এখানে শিক্ষার্থীরা এসে বাংলাদের মুদ্রার পরিচিতি যেমন পাবে ঠিক তেমনি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও মুদ্রা প্রচলের ইতিহাস তাদের সংস্কৃতি, জীবনব্যবস্থা, শাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে।’

সেমিনার শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিনজনকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। এ সময় ডোনাররা বিভিন্ন দেশের কিছু মুদ্রা ‘টাকা জাদুঘরে’ দেয়ার জন্য ডেপুটি গভর্নরের হাতে তুলে দেন।

সেমিনারে টাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠাকালীন ডোনার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেক গুণীজন উপস্থিত ছিলেন। সেমিনার শেষে ডেপুটি গভর্নর টাকা জাদুঘরের বিশেষ টাকা প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি ও অন্যান্য অতিথিরা জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন।