বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবীমা কার্যকর করা হবে : মোহাম্মদ নাসিম

সুইজারল্যান্ড (জেনেভা), ২৩ মে, ২০১৮ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্নদেশের মতো বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য বীমা কার্যকর করা হবে। টাকার অভাবে দেশের কোনো মানুষ চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না, দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসা করাতে গিয়ে যাতে করে আরও নিঃস্ব না হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বীমা কার্যকর করা হবে। তিনি মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধিবেশনে স্বাস্থ্যখাতের বিশ্ব নেতাদের সামনে নির্ধারিত বক্তব্যে এমন লক্ষ্য ও অঙ্গিকারের কথা তুলে ধরেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় মেটানোই আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের ধারায় আমরা ইতোমধ্যেই ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্র মানুষের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমরা তিনটি উপজেলায় বিশেষ হেলথ স্কীম চালু করেছি। সেই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা কার্যকর করতে কর্মকৌশল নির্ধারন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠির দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। যেটা এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম অংশ হিসাবে পুষ্টির উন্নয়নকেও অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অপুষ্টি দূর করারক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিক নির্দেশনার আলোকে কর্মপরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কাজ চলছে উরেøখ করে তিনি বলেন, ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আগের চেয়ে অনেক অগ্রগতি ঘটেছে, শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার কমিয়ে আনা গেছে, সংক্রামক রোগেও মৃত্যু কমেছে।’
মোহাম্মদ নাসিম রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য সেবা প্রসঙ্গে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ওই দেশ থেকে বিতারিত হওয়া ১০ লাখের বেশি মানুষকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মানবতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তাদেরকে কেবল আশ্রয়ই নয়, খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ কাজে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতো আরও কিছু আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠান সহায়তা করছে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন কম দামে উচ্চ মানসম্পন্ন সব ধরনের ওষুধ ও ভেকসিন তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য আর্ন্তজাতিক মহলের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। এর আগে বিকেলে বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কার্যক্রম বিষয়ক পরিচালক ফাদিয়া সাদাহ্ জাতিসংঘ ভবনের এক সভাকক্ষে বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। এ সময়ে বিশ্বব্যায়ক পরিচালক জানান রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যহত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামী মাসে ৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য প্রস্তাব বিশ্বব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত হবে।
অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক অন্যান্য সভাগুলোতে বাংলাদেশে পক্ষে অংশ নেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন প্রমুখ।
সাইড মিটিংগুলোতেও বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রিতরোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবা, অসংক্রামিত রোগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

Inline
Inline