বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করতে আমরাই বাধ্য করেছি: নওয়াজ শরিফ

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এমনটা দাবি করে বলেছেন, একই ধরনের নিপীড়ন ১৯৭১ সালে ঢাকার সঙ্গে করা হয়েছিল যে কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পাঞ্জাব হাউজে আইনজীবীর এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।

নিজের বর্তমান অবস্থাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে তুলনা করেছেন নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘রাষ্ট্র কর্তৃক তাকে আলাদা করে ফেলা আর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পটভূমির মিল রয়েছে এবং বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন হতে আমরাই বাধ্য করেছি।’

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পাওয়ার পরও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। উল্টো নানা টালবাহানার পর বাঙালির ওপর চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ। যার পরিণতিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে দুই বার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি নওয়াজ। দ্বিতীয়বার সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তিনি দেশান্তরিত হয়েছিলেন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসেন নওয়াজ।

তার আগের পাকিস্তানের ১৭ জন প্রধানমন্ত্রীর কেউই তাদের পুরো মেয়াদ কখনও দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।

পাকিস্তানের এই পরিণতির জন্য দেশটির সেনা শাসকদের কৃতকর্মের জন্য বিচারের মুখোমুখি না হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন নওয়াজ।

এ প্রসঙ্গেও একাত্তরে বাঙালির উপর সংঘটিত নিষ্ঠুরতা এবং তার জন্য কারও শাস্তি না হওয়ার বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

ওই পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে নওয়াজ শরিফ বলেন, ‘রাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রিয় এক নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হস্তান্তর করা থেকে বিরত থাকার কারণেই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছিল।’

এর আগেও ১৯৭১ সালের দেশ বিভাজন নিয়ে নওয়াজ শরিফ কথা বলেছিলেন। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির জেরে গত বছর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট এ প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায় থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেয়।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে নওয়াজ বলেন, ‘পাকিস্তান তৈরির পেছনে বাঙালিরা প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করিনি এবং তাদেরকে আলাদা করে দিয়েছি।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি নিয়ে বিচারপতি হামুদুর রহমান কমিশন একটি সততাপূর্ণ ও স্পষ্ট পর্যালোচনা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু আমরা তা পড়েই দেখিনি।’

শেখ মুজিব প্রসঙ্গে তিনবারের ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী ছিলেন না, কিন্তু আমরা তাকে বিদ্রোহী করেছিলাম।’