বসন্ত বরণের পোশাক

হালকা বাতাসে দোলে উঠে পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া। কোকিলের কুহুতান আর গাছের কচি পাতায় ঝিরিঝিরি বাতাসের দোল খাওয়া। এ তো ঋতুরাজকে বরণ করার প্রস্তুতি।

আর এই আয়োজনে সুতীব্র উল্লাসে মেতে উঠবেন তরুণ-তরুণীরা। গাইবেন তারা নবজীবনের জয়গান। ভাসবেন ও ভাসাবেন ভালোবাসায়।

ঋতুরাজ বসন্তের উদাসী হাওয়ায় উচাটন মন যেন ঘরে থাকতে চায় না।

ইট-কাঠ-পাথরের এই নগরে প্রকৃতিজুড়ে সেভাবে হয়তো দেখা মেলে না বসন্তের রূপ-যৌবন। তবে বাসন্তী রঙা বসনে ঠিকই বরণ হবে রঙিন বসন্ত।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বসন্ত আর ভালোবাসা তো এখন মিলেমিশে একাকার। পয়লা ফাল্গুনের পরদিনই ভালোবাসা দিবস।

তাই ফাল্গুনে তারুণ্যই এগিয়ে আত্মপ্রকাশের লালসায়।

ফাল্গুনি হাওয়ায় মিশে থাকা গাঁদা ফুলের সুমিষ্ট ঘ্রাণ আর হলুদের আভায় একাকার হবে সবাই।

বসন্তে প্রকৃতির সাজে তাল মিলিয়ে সবাই নিজেকে মনের রঙে সাজিয়ে তোলে। ছোট-বড় সবার বর্ণিল সাজে চারপাশ উত্সবের আমেজে মুখরিত। চুলে গাঁদাফুল, বেলি কিংবা রজনীগন্ধা, হাতে নানা রঙের রেশমি চুড়ি, পরনে লাল-কমলা-বাসন্তীর সংমিশ্রণে শাড়ি।

ফুলের সাজে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনি গয়না, সাজ ও শাড়ির রঙ আর একই নকশায় সীমাবদ্ধ নেই। এক সময় গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ — এই ফুলগুলোই চুলের শোভা বাড়াতে ব্যবহার করা হতো।

তবে এখন শাড়ির রঙে, ডিজাইনে যেমন ভিন্নতা এসেছে, তেমনি ফুলের ক্ষেত্রেও নানা রঙের, নানা জাতের ফুল ব্যবহার করা হয়।

যদিও শাড়ির সঙ্গে হালকা হাতে একটা খোঁপা করে পাশে ক্লিপ দিয়ে ফুল গুঁজে দিতে পারেন। কিংবা কানের পাশ দিয়ে গুঁজে দিতে পারেন ভিন্ন রঙের কয়েকটি ফুল। খোঁপায় যে কোনো ফুলের মালা জড়িয়ে নিতে পারেন। সেটা হতে পারে রজনীগন্ধা, বেলি, গাঁদা বা গাজরা।

প্রেয়সীর খোঁপার কাঁটায় কবিদের হৃদয় বহুবার আটকে গেছে। যদিও আজকাল উত্সবে বিশেষ করে তরুণীরা চুল খোলা রাখতেই পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে একপাশে ক্লিপ দিয়ে ফুল আটকিয়ে নিতে পারেন। আপনার সাজ ও গয়নার সাজে মিলিয়ে ফুল ব্যবহার করতে হবে। ফুল লাগানোর ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, কোথায় ফুল লাগালে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় লাগবে।

যাদের চুল একটু লম্বা তারা একটি সুন্দর বেণি করতে পারেন। নিজের সাজ-সজ্জা, শাড়ি-গয়নার সঙ্গে মিলিয়ে একটি ফুলের মালা বেণিতে জড়িয়ে নিতে পারেন। মানানসই রঙের শাড়ি ও সাজে আপনি হয়ে উঠতে পারেন উত্সবের দিনটিতে অনন্য সুন্দরী।

পলাশ, শিমুল নাম না জানা কত ফুলের রূপ ও ঘ্রাণে হৃদয় যেমন আনন্দে টইটম্বুর, তেমনি তরুণ-তরুণী, বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী, বর-বধূর সযতনে বর্ণিল সাজ, নতুন পল্লবে সজ্জিত প্রকৃতির মতোই সতেজ-স্নিগ্ধ রূপ চারপাশের পরিবেশ আনন্দমুখর করে তোলে। সকালের স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসের উদ্বেল ছোঁয়ায় মন মুগ্ধতায় ভরে ওঠে।

ফাল্গুনের কাপল ফ্যাশন যেন এক জোড়া হলদে ঘুঘু উড়ে যাওয়া। স্টাইলিশ কপোত-কপোতীদের ম্যাচিং পোশাক সময়ের ফ্যাশন। বাসন্তী শাড়ি পছন্দের শীর্ষে থাকলেও সঙ্গীকে দেখা চাই হলুদ পাঞ্জাবিতে। হলুদ কাপড়ে কুসুম রঙের জলছাপ। শাড়ি পাঞ্জাবি যেন বাঙালি দম্পতির অহঙ্কার বহন করে। আর যদি আসে বসন্তের বাতাস, তাহলে তো কথাই নেই।

ছেলেদের পোশাকে বেশি ঝলমলে হলুদ, কমলা অথবা লাল না আসাই ভালো। তাতে একটু মেয়েলি ভাব চলে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে কাপড়ের ব্যাপারেও। একটু মোটা কাপড় এখন ছেলেদের পাঞ্জাবি, ফতুয়া ফ্যাশনে ইন। পোশাক বাছাইয়ে সরাসরি হলুদ অথবা বাসন্তী রঙ না নিয়ে আমি মিক্সড কালার অথবা ভিন্ন শেডের দিকে নজর দেয়া ভাল সিদ্ধান্ত।

সিম্পল এবং কম কাজের ডিজাইন এখন ছেলেদের ফ্যাশনে ইন। তাই সময়ের ড্রেস হওয়া চাই হলুদ, কমলার মধ্যে সাদামাটা কারুকাজের। বাঙালির উৎসব বলতে পাঞ্জাবিকেই বোঝানো হয়। তাই ফাল্গুন, বসন্ত যা-ই বলুন, পাঞ্জাবি সবার চাই-ই চাই। যেহেতু এখনও হালকা শীত, তাই পাঞ্জাবির সঙ্গে জিন্স, দুই ফিতার স্যান্ডেল এবং পাতলা চাদর।

এক জোড়া শালিকের ন্যায় সাজুগুজু ও ঘোরাঘুরি করে মুগ্ধতা আর উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নতুন দিনের সমাপ্তি টানা হবে। তবে ভালোবাসা গ্রহণের ও বিলিয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আবার শুরু হবে পরের দিন।

শীতের ঠাণ্ডা বাতাসকে বিদায় জানিয়ে এরই মধ্যে বইতে শুরু করেছে বসন্তের হাওয়া। আর বসন্ত বরণ করে নিতে আয়োজনের শেষ নেই। সব থেকে বেশি উৎহ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে।

আর তাদের কথা মাথায় রেখেই শহরের বিভিন্ন দোকান বিশেষ করে দেশীয় ফ্যাশন ঘরগুলোও সেজে উঠেছে ফাল্গুনের আমেজে। নামিদামি ব্র‍্যান্ডের ভিড়ে ছোট পরিসরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেকেই একক কিংবা যৌথ উদ্যোগে বুটিক হাউজ গড়ে উঠেছে। এসব হাউজ সাধারণত অনলাইনে ফেসবুক পেজ কিংবা পারসোনাল আইডি থেকে ড্রেস সেল করে থাকেন কাস্টোমারদের কাছে। আমরা এমন কিছু বাছাই করা সেলার সাথে কথা বলে এই বসন্তে তাদের বেস্ট কালেকশন সমূহ একটা এলবাম আকারে প্রকাশ করেছি। পাঠকরা যারা এসব ড্রেস থেmকে পছন্দমত কিনতে আগ্রহী, তারা সেই পেজ নেম এর উপর ক্লিক করলেই কাঙ্ক্ষিত পেজ ওপেন হয়ে যাবে। এবং তখন সেখানে ম্যাসেজের মাধ্যমে অর্ডার করতে পারবেন।

ড্রেসলাইন :

Isabella’s World :

আলোর দিশারী :

Kajol Kamal :

Color City :

Shafia Begum :

Tasmia Jannat :

Nusrat Faria :

kobita shaha :